টেলিফোন বিকল হয়ে করোনা কন্ট্রোল রুম অচল

দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি : করোনা মোকাবিলায় জলপাইগুড়ি পুরসভার কন্ট্রোল রুম এখন চলছে একটি বিকল টেলিফোন দিয়ে। আবার এই টেলিফোনের বিকল্প হিসেবে যেসব নম্বর দেওয়া হয়েছে তাতে ফোন করে কাউকে পাওয়া যায় না। ফলে এই কন্ট্রোল রুম নিয়ে শহরবাসী এখন রীতিমতো বিভ্রান্ত। যদিও পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন পাপিয়া পাল বলেছেন, কন্ট্রোল রুম খোলা আছে। তবে টেলিফোনটি বিকল। আমরা দ্রুত টেলিফোন সারিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।

গত মার্চের শেষে করোনা মোকাবিলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার লকডাউন ঘোষণা করে। এর পরেই জলপাইগুড়ি পুরসভায় জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার জন্য এই কন্ট্রোল রুম চালু হয়। সেই সময় বলা হয়েছিল, পুর এলাকার ওয়ার্ডগুলিতে বাইরে থেকে কেউ এলেন কি না, এলে কতজন এসেছেন, কোথা থেকে এসেছেন, তাঁদের নাম-ঠিকানা যাতে এলাকার মানুষ সহজেই পুরসভাকে জানাতে পারেন এবং পুরসভাও যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে তার জন্যই এই কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এরপরেই পুরসভার জল সরবরাহ বিভাগের একটি টেলিফোন নম্বর ওই কন্ট্রোল রুমে দেওয়া হয়। কিন্তু কন্ট্রোল রুম খোলার কিছুদিন পর থেকেই ওই নম্বরে ফোন করে কাউকে পাওয়া যায় না।

- Advertisement -

প্রাক্তন কংগ্রেস কাউন্সিলার পিনাকী সেনগুপ্ত বলেন, এখন পুরসভার প্রশাসক হিসেবে যাঁরা আছেন তাঁরা গঠনমূলক কাজের বদলে চটকদারি কাজ বেশি করছেন। যে ঘরে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে, এখন সেখানে ঘরটাই আছে, কাজ নেই। টেলিফোন বিকল। পুরসভা এলাকায় বাইরে থেকে কেউ এসে ঢুকে পড়লে সেই খবর দেওয়া যায় না। আবার খবর দিতে গেলে একজন আরেকজনকে দেখিয়ে দেয়। প্রাক্তন বাম কাউন্সিলার প্রদীপ দে বলেন, কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম টেলিফোন। এবার টেলিফোনই যদি বিকল থাকে তাহলে আর কন্ট্রোল রুম রেখে লাভ কিছু আছে বলে আমার মনে হয় না। অনেকদিন হয়ে গেল টেলিফোন বিকল, এখনও ঠিক করা হয়নি। এক্ষেত্রে পুরসভা এখন যাঁরা চালাচ্ছেন তাঁদের সদিচ্ছার অভাব আছে বলেই মনে হয়।

২৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কংগ্রেস কাউন্সিলার অম্লান মুন্সি বলেন, এলাকায় সমস্যা হলে কোথায় জানাব সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ কন্ট্রোল রুমের যে নম্বরগুলি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলিতে ফোন করলে পাওয়া যায় না। এখন কন্ট্রোল রুমের নম্বরে ফোন করতেই সেটা আউট অফ অর্ডার বলছে। তিনি বলেন, এরপর বিকল্প নম্বরে ফোন করলে সেখান থেকে জেলা শাসকের দপ্তরে জানাতে বলা হয়। সুতরাং প্রশ্ন থেকেই যায়, কন্ট্রোল রুমের এখন কী ভূমিকা আছে।