করোনা মানেই মৃত্যু নয়, বলছেন অশোক

ফাইল ছবি

অশোক ভট্টাচার্য : করোনা মানে মৃত্যু নয়, এই লড়াইয়ে জেতা যায়। শুধু নিজের উপর আত্মবিশ্বাসটা পুরোপুরি বজায় রাখতে হবে। করোনার সংক্রমণে পড়ে ২০ দিনে এটাই আমার উপলব্ধি। কয়েকদিন আগে আমার শেষ করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। গান শুনে আর বই পড়ে এই কটা দিন কোনও মতে কাটিয়েছি। চিকিৎসকরা সোমবার ছুটি দেবেন। বাড়ি ফেরার জন্য মনটা রীতিমতো ছটফট করছে। সুস্থ হওয়ার পর কতক্ষণই বা বিছানায় শুয়ে থাকা যায়? পাশাপাশি, আরও একটা প্রশ্ন আমাকে খুব ভাবাচ্ছে। করোনা হলেই মৃত্যু বলে আমরা অনেকে ভেবে নিচ্ছি কেন?

যে কোনও লড়াই জেতার মন্ত্র একটিই। আত্মবিশ্বাস। পাশাপাশি, আর্লি ডিটেকশন অ্যান্ড আর্লি ট্রিটমেন্টও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বহু ক্ষেত্রে এটিই ঠিকমতো বা সময়মতো হচ্ছে না। আমার ক্ষেত্রেও দেরি হয়েছিল। করোনা সংক্রামিতদের অনেকে তো তাঁদের শারীরিক সমস্যার বিষয়টি ঠিকমতো বুঝতেই পারেন না। পাশাপাশি, চিকিৎসকদের একাংশ এ জাতীয় রোগীদের এড়িয়ে চলেন। এতেই তাঁদের যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে যায়। বিশেষ করে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলেই বিপদ বাড়ে। এর জেরে অনেকের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। আগে জানতাম এই রোগে বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি। এখন দেখছি শিলিগুড়িতে ৩০ বছরের কমবয়সী রোগীও মারা গিয়েছেন। আবার সংক্রামিত হওয়ার পর অনেকে কম সময়ে মধ্যেই নেগেটিভ হয়েছেন। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক চেষ্টার জেরেই এমনটা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু প্রাপ্য সম্মান পান না বলে তাঁদের আক্ষেপ করতে শুনেছি। এটা পশ্চিমবঙ্গের মতো প্রগতিশীল রাজ্যের পক্ষে লজ্জাজনক।

- Advertisement -

গত দুমাসে আমি ও আমার সহকর্মীরা করোনা সংক্রামিত অনেকের কাছে ছুটে গিয়েছি। তাঁদের সাহস দেওয়ার চেষ্টা করেছি। যেদিন আমার জ্বর এসেছিল সেদিনও তিনটি জায়গায় গিয়েছিলাম। ফলওয়ালার সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তাঁর মধ্যে মৃত্যুভয় দেখিনি। সত্যি বলতে কী, ওই মানুষটিই আমাকে বাঁচার সাহস জুগিয়েছেন। তবে সতর্কতার কোনও বিকল্প নেই। আমরা যাতে সহজে এই ভাইরাসের শিকার না হই তা আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে। যে বেসরকারি হাসপাতালে আমি সুস্থ হয়ে উঠলাম সেখানকার কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী সহ সকলকে অভিনন্দন জানাই। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যরা বারবার আমার খোঁজ নিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাই। আমি না থাকা সত্ত্বেও পুরনিগমের কাজকে ভালোভাবে সচল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিককে ধন্যবাদ। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান, পার্টির রাজ্য সম্পাদক সহ সমস্ত জেলা নেতৃত্ব – সকলকে অভিনন্দন।

(লেখক শিলিগুড়ির বিধায়ক ও পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান)