করোনা এফেক্টে পিছোচ্ছে জয়েন্টের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফলপ্রকাশ

246

কলকাতা: করোনা সংক্রামক ও তার জেরে লকডাউনের ফলে আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড। কিন্তু এবার সেই সিদ্ধান্তকে কার্যকরী করে আরও পিছিয়ে দিচ্ছে রাজ্য জয়েন্টের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফলপ্রকাশ। মূলত উচ্চমাধ্যমিকের লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরেই রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফলপ্রকাশ করত। এমনটাই পরিকল্পনা ধরে এগোচ্ছিল রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড৷

উল্লেখ্য ২ ফেব্রুয়ারি বোর্ড এই বছরের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষা নেয়। সাধারণত ১ মাসের মধ্যেই রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড ফলাফল প্রকাশ করে দেয়। কিন্তু এবছর ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক চাপের কথা মাথায় রেখেই উচ্চমাধ্যমিকের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবার পরেই ফলপ্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জেরে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফল প্রকাশ অনেকটাই পিছিয়ে দিতে চলেছে বোর্ড বলে বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে।

- Advertisement -

জয়েন্ট এন্ত্রন্স বোর্ড সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, গতবছরের থেকে এবছর আবেদনকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অনেকটাই কমে গিয়েছে। এবছর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য আবেদন করেছেন মোট ৮৮,৮০০ জন পরীক্ষার্থী। রাজ্যে প্রত্যেক বছরেই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আসন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ খালি থেকে যাচ্ছে। মূলত জয়েন্ট পরীক্ষা দেরিতে নেওয়া ও ভর্তির সময়সীমা অনেকটা দেরিতে হওয়ায় এত বিপুল সংখ্যক আসন খালি থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ কর্তৃপক্ষের। এবছর তার জেরেই তুলনামূলকভাবে পরীক্ষার সময় সীমা অনেকটাই এগিয়ে ২রা ফেব্রুয়ারি করা হয়। বোর্ড সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ফলাফল প্রস্তুত করে ফেলেছে রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড। তবে উচ্চমাধ্যমিকের লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে ফল প্রকাশ করতে চাইছে না জয়েন্ট বোর্ড।

তবে সামগ্রিকভাবে লকডাউন ও করোনা ভাইরাস সংক্রমণের জেরে বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষত একাধিক কর্পোরেট সংস্থা বিশ্বজুড়ে ছাঁটাই শুরু করেছে। ফলত, এই পরিস্থিতিতে ছাত্র-ছাত্রীরা আদৌ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ায় আগ্রহী হবেন কিনা তা নিয়েও চিন্তিত রয়েছে রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড।

তবে জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের ফলাফল বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গেই র‍্যাঙ্ক কার্ড দিয়ে দেবে বোর্ড। এর ফলে পড়ুয়ারা আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারবেন তারা কোন কলেজে বা কী নিয়ে পড়তে চান। এর জেরে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আসন খালি থাকার প্রবণতা আটকানো যাবে বলে মনে করছে বোর্ড আধিকারিকরা। তবে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা করেছেন বাকি থাকা উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষাগুলি হবে জুন মাসে। সে ক্ষেত্রে জুন মাসে পরীক্ষা শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গেই ফল প্রকাশ করে দিতে পারে জয়েন্ট বোর্ড বলেই মনে করছেন রাজ্যের শিক্ষাবিদরা।