কোভিড ওয়ার্ডে বসে করোনা সচেতনতা প্রচার চিত্রশিল্পীর

95

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : দুবেলা নিয়ম করে অ্যাজিথ্রল, জিঙ্ক ট্যবলেট খাওয়া, গার্গল করা। করোনা ওয়ার্ডে বসে সব নিয়মবিধিই মেনে চলেছেন। পাশাপাশি অন্যান্য রোগীদের শুয়েবসে থাকা, নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটোছুটি সবই তাঁর রং তুলিতে ফুটিয়ে চলেছেন অভিজিৎ সরকার। করোনা সচেতনতায় কোভিড ওয়ার্ডে শুয়ে প্রচার চালাচ্ছেন রায়গঞ্জের এই চিত্রশিল্পী তথা পরিবেশকর্মী।

নিজে করোনা সংক্রামিত হয়ে কর্ণজোড়ার মিক্কিমেঘা কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন রায়গঞ্জের বিশিষ্ট ভাস্কর ও চিত্রশিল্পী অভিজিৎ সরকার। তাঁর সঙ্গে রয়েছে আরও করোনা রোগী। সংক্রমণ পরিস্থিতি যখন সকলের মধ্যেই চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, তখন হাসপাতালের বিছানায় বসে করোনা যোদ্ধা নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের ছবি এঁকে চলেছেন তিনি। শহরের মানুষ যাতে সংক্রামিত না হয়ে পড়ে, সেজন্য ছবি এঁকে সচেতনতার বার্তা দিচ্ছেন অভিজিৎবাবু। শিল্পীর কথায়, আমরা সবাই একে অপরের কাছে অপরিচিত। তবুও আমরা সবাই এক রোগে আক্রান্ত। ফলে আমাদের মধ্যে অনেক অমিলের মধ্যেও মিল রয়েছে। এই সময় আমাদের একে অপরের পাশে থাকা দরকার। পাশাপাশি আর কেউ এই রোগের শিকার না হয় তারজন্যও সকলকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া দরকার।

- Advertisement -

শারীরিক দিক থেকে তিনি রোগী। কিন্তু মনের দিক থেকে তিনি যে শিল্পী। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের যাতে অবসাদ গ্রাস করতে  না পারে সেজন্য ছবি আঁকার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তিনি। অভিজিৎবাবুর মতে,  সারাক্ষণ রোগীদের দেখতে দেখতে তাঁরাও ক্লান্ত। তাঁদের দৈনন্দিন লড়াইময় কাজের মধ্যেই একটু অবসরের রং ভরতে ছবি আঁকছি। তাঁরাও খুশি ব্যক্ত করেছেন।

কোভিড হাসপাতালের সিস্টার ইনচার্জ বাপি চৌধুরী বলেন, অভিজিৎবাবু তুলির টানে আমাদের ছবি ফুটিয়ে তুলছেন। পাশাপাশি করোনা সচেতনতার বার্তাও দিয়ে চলেছেন। আমরা ভীষণ উৎসাহ পাচ্ছি। উল্লেখ্য, এপ্রিল মাসের ২৮ তারিখ থেকে হোম আইসোলেশনে থাকলেও অক্সিজেন লেভেল কম থাকায় কর্ণজোড়ার কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হন অভিজিৎ। প্রতিদিনই সকাল ৯টা থেকে রাত ৮ পর্যন্ত শিল্পচর্চা করে চলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, এখানে অনেক রোগীর অনেকরকম শারীরিক কষ্ট রয়েছে। আমি নিজের হাতে তাঁদের পরিচর্যা হয়তো করতে পারছি না, তবে রং তুলির মাধ্যমে চেষ্টা করছি গুরুগম্ভীর পরিবেশটা অনেকটা হালকা করে দিতে।

তাঁর এই সচেতনতামূলক কাজকে সমর্থন জানিয়েছেন সাপোর্ট কোভিড টিমের সদস্যরাও। তাঁরা কোভিড হাসপাতালের রোগীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। রোগীর কাছে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পেঁছে দিচ্ছেন। এরই ফাঁকে সাপোর্ট কোভিড টিমের সদস্য শিক্ষক সুশান্ত নাথ বলেন, অভিজিৎবাবুর শিল্পকর্মে ভীষণ খুশি হাসপাতালের রোগী এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। অসুস্থ অবস্থায় তিনি তাঁর শিল্পকর্মের মাধ্যমে সচেতনতার বার্তা পেঁছে দিচ্ছেন। আগামী ১২ তারিখ বিশ্ব নার্স দিবস উপলক্ষ্যে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গলের ছবি ফুটিয়ে তুলবেন। সেজন্য আজ সরঞ্জাম পৌঁছে দিয়েছি। তাঁর সচেতনতার বার্তায় সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও গৃহমুখী হবেন এবং অকারণে ঘরের বাইরে বের হওয়া বন্ধ হবে।

শিল্পীর এই শিল্পকর্মকে কুর্নিশ জানিয়েছেন রায়গঞ্জের পুরপ্রধান সন্দীপ বিশ্বাস। তিনি বলেন, ওঁর কাজের গুণগ্রাহী আমিও। তাঁর সচেতনতামূলক কাজকে কুর্নিশ জানাই। আমি চাই, উনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে আসুক।