খোলা আকাশের নীচেই প্রসব সংক্রামিতের

160

ধূপগুড়ি : তরুণী করোনা সংক্রামিত হওয়ায় স্বাস্থ্যকর্মীরা কেউই কাছে ঘেঁষলেন না। করোনা সংক্রামিতদের পরিবহণের জন্য নির্দিষ্ট অ্যাম্বুল্যান্সটিও তখন হাতের কাছে পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে ওই তরুণী হাসপাতাল চত্বরে খোলা আকাশের নীচেই সন্তানের জন্ম দিলেন। চরম অমানবিক এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শনিবার ধূপগুড়িতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য দপ্তরের ভূমিকাতেও প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্য দপ্তর ঘটনাটি দুঃখজনক বলে জানিয়েছে।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ ওই তরুণী ধূপগুড়ি ব্লক লাগোয়া কোচবিহারের মাথাভাঙ্গা ব্লকের খেতি ফুলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। কর্মসূত্রে তাঁর স্বামী কেরলে থাকেন। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় ওই তরুণী অবশ্য বর্তমানে তাঁর বাপের বাড়িতেই ছিলেন। শুক্রবার বিকেল থেকেই তাঁর প্রসববেদনা শুরু হয়। তরুণীর বাবা-মা এদিন সকালে তাঁকে নিয়ে ধূপগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে পৌঁছান। তরুণীর কোভিড পরীক্ষা করা হলে তা পজিটিভ আসে। স্বাস্থ্য দপ্তরের নিয়মে, করোনা সংক্রামিতদের প্রসব জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে করা হয়। তাই ধূপগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁকে সেখানেই রেফার করেন। তবে একাজে যুক্ত একমাত্র সরকারি নিশ্চয়যানটি সেই সময় জলপাইগুড়ি থেকে রোগী নামিয়ে ধূপগুড়ি ফিরছিল। এদিকে, প্রসবযন্ত্রণায় কাতর তরুণীর পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হতে থাকে। তবে করোনা সংক্রামিত হওয়ায় মা ছাড়া কেউই ওই তরুণীর কাছে ঘেঁষেননি। হাসপাতাল চত্বরে টিকাকরণ কেন্দ্রে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশকর্মী, বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সচালক, কারও কাছ থেকেই কোনও সাড়া মেলেনি বলে পরিবারের অভিযোগ। যন্ত্রণায় কাতর ওই তরুণী হাসপাতাল চত্বরে আউটডোর শেড এবং ন্যায্যমূল্য ওষুধের দোকানের সামনে খোলা আকাশের নীচেই সন্তান প্রসব করেন। সেই সময় মা-ই তাঁর কাছে ছিলেন।

- Advertisement -

তবে সন্তান প্রসবেব খবর জানাজানি হতেই স্বাস্থ্য দপ্তরের টনক নড়ে। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুরজিত্ ঘোষ সহ স্বাস্থ্যকর্মীরা তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দ্রুত পিপিই কিট পরে মা ও সদ্যোজাতকে হাসপাতালের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। করোনা সংক্রামিত হওয়ায় সদ্য মাকে অবশ্য প্রসূতি ওয়ার্ডে নেওয়া যায়নি। হাসপাতালের ভিতরে একটি জায়গায় আলাদাভাবে মা ও সদ্যোজাতের পরিচর্যা করা হয়। এর মধ্যেই ওই অ্যাম্বুল্যান্সটি হাসপাতালে এসে পৌঁছায়। তাতে করে ফুটফুটে পুত্রসন্তান সহ ওই তরুণীকে জলপাইগুড়িতে পাঠানো হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুজনে সুস্থই আছে।

ওই তরুণীর বাবা বলেন, মেয়ে করোনা সংক্রামিত হওয়ায় এখানে ওর প্রসব হবে না বলে কর্তৃপক্ষ জানায়। ওকে জলপাইগুড়িতে রেফার করা হয়। সেই সময় সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সটি এখানে ছিল না। করোনা সংক্রামিত হওয়ায় কেউই সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। যন্ত্রণায় কষ্ট পেতে পেতে মেয়ে খোলা আকাশের নীচেই প্রসব করে। তারপর চিকিৎসকরা এগিয়ে আসেন। তাঁরা আগে এগিয়ে এলে মেয়েটাকে এভাকে কষ্ট পেতে হত না। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, পরিবারের সদস্যরা একেবারে শেষ মুহূর্তে ওই তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী বা আশাকর্মীরা কেউই তাঁদের সঙ্গে ছিলেন না। ফলে তরুণীর গর্ভাবস্থার বিস্তারিত তথ্য হাতে পাওয়া যায়নি। কোভিড পজিটিভ হওয়ায় ওই তরুণীকে জলপাইগুড়ি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। নির্দিষ্ট অ্যাম্বুল্যান্সটি তখন রাস্তাতেই ছিল। কিন্তু তার আগেই ওই তরুণীর প্রসব হয়ে যায়। আমি ও স্বাস্থ্যকর্মীরা মা ও সদ্যোজাতের পরিচর্যা করি। সুস্থ অবস্থায় সরকারি গাড়িতে তাঁদের জলপাইগুড়ি পাঠানো হয়। গোটা ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক হলেও স্বাস্থ্যকর্মীদের তৎপরতায় মা ও সদ্যোজাত সুস্থই রয়েছে।