চা বাগানে করোনার হানা, ভয়ে সিঁটিয়ে শ্রমিকরা

156

নাগরাকাটা : ধীরে ধীরে এবার চা বাগানেও থাবা বসাতে শুরু করেছে করোনা। ইতিমধ্যেই ডুয়ার্সের তিন-চারটি চা বাগান থেকে করোনা রোগীর সন্ধান মিলেছে। দুটি বাগানের একাধিক শ্রমিক মহল্লাকে কনটেনমেন্ট জোন হিসেবেও ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। যে বাগানে করোনা সংক্রামিতের সন্ধান মিলছে, সেখানেই ভয়ে আর শ্রমিকরা কাজে আসতে চাইছেন না। এমন পরিস্থিতিতে অসমের মতো উত্তরবঙ্গের চা বাগানেও টেস্টিংয়ে বিশেষ ব্যবস্থা চালুর দাবিতে সরব হয়েছে শ্রমিক থেকে মালিক সব পক্ষই। করোনা নিয়ে উত্তরবঙ্গের দাযিত্বপ্রাপ্ত অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি ডাঃ সুশান্ত রায় বলেন, এর আগেও করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলায় চা বাগানের মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল। সেই অনুয়াযী বাগানগুলিতে ভালোই কাজ হয়েছে। তবু আমরা সতর্ক রয়েছি। ফের প্রতিটি বাগানের কাছে করোনা নিয়ে অ্যাডভাইজারি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চা বলয়ের হাসপাতালে টেস্টিংয়ের ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। মালবাজার, নাগরাকাটা, বীরপাড়া, কালচিনির মতো স্থানগুলিতে ট্রুনাট যন্ত্র বসানো হয়েছে। জলপাইগুড়িতে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টও চালু হয়েছে। কোচবিহারেও চালু হচ্ছে বলে তিনি জানান।

শ্রমিক সংগঠনগুলির বক্তব্য, গঠনগত ও সামাজিকভাবে চা বাগানের শ্রমিক মহল্লা এমনই যে, সেখানে কোনও সংক্রামক রোগ দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একেকটি শ্রমিক আবাসে শোয়ার ঘর রয়েছে দুটি করে। তাতেই গাদাগাদি করে পরিবারের সদস্যরা থাকেন। বাড়িতে শৌচালয়ে সংখ্যা একটিই। পাশাপাশি অবসর সময়ে বাগানগুলির বাসিন্দাদের একজোট হয়ে আড্ডা দেওয়া শতাব্দীপ্রাচীন দস্তুর। চা বাগান থেকে করোনার হদিস মেলার পর দেরি না করে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির জেলা শাসকদের কাছে বিশেষভাবে টেস্টিং শুরুর আর্জি জানিয়ে ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠিয়েছে চা মালিকদের সংগঠন টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার (টাই) ডুয়ার্স শাখা। সংস্থার সম্পাদক রামঅবতার শর্মা বলেন, আশা করছি প্রশাসন এই আর্জিতে সাড়া দেবে। আরেকটি সংগঠন ডিবিআইটিএ-র সম্পাদক সঞ্জয় বাগচি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে বর্তমানে বাগানগুলিতে বহিরাগতদের আসার বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বসছে না হাটও। তবুও এখন যা পরিস্থিতি তাতে কেউ উপসর্গহীন অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন কি না তা টেস্টিং ছাড়া বোঝা অসম্ভব। সে কারণে বাগানের জন্য আলাদা করে টেস্টিং চালুর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। আইটিপিএ-র মুখ্য উপদেষ্টা অমিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, পরিস্থিতির দিকে বাগান পরিচালকদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। টেস্টিং ব্যবস্থা রাজ্যের পক্ষ থেকে বাড়ানো হয়েছে। আশা করছি এর সুফল বাগানগুলি পাবে।

- Advertisement -

চা বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়নের সভাপতি মোহন শর্মা বলেন, করোনা যে এখন বাড়ছে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে টেস্টিংয়ের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই। আলিপুরদুয়ারের সাংসদ ও ভারতীয় টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জন বারলা বলেন, চা বাগানে যে কোনও সময় করোনা ভয়ংকর আকার ধারণ করতে পারে। অসম সরকার সেখানকার বাগানগুলির জন্য বিশেষভাবে টেস্টিংয়ের ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাহলে উত্তরবঙ্গের জন্য কেন এরকম হবে না? এর জন্য যদি কেন্দ্রের সহযোগিতার প্রয়োজন হয় সেটা নিয়ে আমরা পদক্ষেপ করতে প্রস্তুত আছি। জয়েন্ট ফোরামের অন্যতম আহ্বায়ক জিয়াউল আলম বলেন, দ্রুত বাগানের হাসপাতালগুলি সরকারের আওতায় নিয়ে আসা হোক। সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবস্থাও করতে হবে। পরিস্থিতির পর্যালোচনায় জেলা ও কোভিড প্রশাসন দ্রুত চা শিল্পের সঙ্গে জড়িত সব মহলকে নিয়ে ফের বৈঠকে বসুক। কিছু মালিক এখনও বেপরোয়া মনোভাব দেখিয়ে যাচ্ছেন।