কোচবিহারের গ্রামীণ এলাকাতেই করোনার প্রকোপ বেশি

470

শিবশঙ্কর সূত্রধর, কোচবিহার: গ্রামীণ এলাকাতেই বেশি থাবা বসাচ্ছে করোনা ভাইরাস। মেখলিগঞ্জ বাদ দিয়ে কোচবিহার জেলার বাকি চারটি মহকুমার গ্রামীণ এলাকাতেই বেশি করোনা সংক্রামিত রোগীর হদিশ মিলেছে। তবে কোচবিহার জেলার ছয়টি পুরসভার হলদিবাড়িতে একজন করোনা আক্রান্ত রয়েছে। তাছাড়া, কোচবিহারের বাকি কোনও পুরএলাকায় করোনা আক্রান্ত নেই। এদিকে গ্রামীণ এলাকায় করোনা সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। জেলাশাসক পবন কাদিয়ান বলেন, ভিনরাজ্য থেকে অনেকেই জেলায় ফিরেছেন। আর্থিক সংকট কাটাতে ১০০ দিনের কাজ দেওয়া হচ্ছে।

হলদিবাড়িতে এক জন করোনা আক্রান্ত থাকলেও মাথাভাঙ্গা, দিনহাটা ও মেখলিগঞ্জ পুরসভায় কোনও করোনা আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্বাভাবিক ভাবেই কোচবিহারের পৌর এলাকাগুলি নিয়ে জেলাপ্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন। তবে, গ্রামীণ এলাকার করোনা সংক্রামিতের পরিসংখ্যান তাঁদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এখন পর্যন্ত জেলার মোট ২৭৯ জন বাসিন্দার মধ্যে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তার মধ্যে ১৪২ জনই দিনহাটা মহকুমার গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা। সেখানকার দিনহাটা ১ ব্লকে ৬৫, দিনহাটা-২ ব্লকে ৬০ ও সিতাই ব্লকের ১৭ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। তার মধ্যে ১৩৪ জন সুস্থ হযে উঠেছেন।

- Advertisement -

এদিকে, কোচবিহার ১ ব্লকে ৪২ ও কোচবিহার ২ ব্লকে ১৩ জন সংক্রামিত হয়েছেন। এদিন কোচবিহার মহকুমায় নতুন করে আরও ৬ জন করোনা আক্রান্তের হদিস মিলেছে। তুফানগঞ্জ ১ ব্লকে ১৪ ও তুফানগঞ্জ ২ ব্লকে ২৮ জন করোনা সংক্রামিতের খোঁজ মিলেছে। তাঁদের ১৫ জন সুস্থ হয়েছেন। নতুন করে তুফানগঞ্জ মহকুমায় আরও ৯ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে।

মাথাভাঙ্গা ১ ব্লকে ৬, মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকে ২ জন ও শীতলকুচি ব্লকে ৩ জন সংক্রামিত হয়েছেন। তাঁদের আটজন সুস্থ হয়েছেন। তবে মেখলিগঞ্জ মহকুমার গ্রামীণ এলাকাগুলি এখনও করোনামুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশের দুই নাগরিকের কোচবিহারে করোনা পজিটিভ পাওয়া গিয়েছিল। সব মিলিয়ে গোটা জেলায় মোট সংক্রামিতের ২১৬ জন সুস্থ হয়েছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, কোচবিহার জেলার লক্ষাধিক মানুষ ভিনরাজ্যে কাজ করেন। তাঁদের ধাপে ধাপে জেলায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। যাদের সিংহ ভাগই গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা। আর এ কারণেই গ্রাম গুলিতে করোনার থাবা বেড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, লকডাউনের কারণে বহু মানুষ কর্মহীন। স্বাভাবিক ভাবে করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা বেশি থাকায় অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রযেছে। কোনও পরিবারে করোনা সংক্রামিতের খোঁজ মিললে সেই বাড়ি ও তার পার্শবর্তী কিছু বাড়ির এলাকাকে কনটেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে। এরফলে ওই পরিবার গুলির রোজগার বন্ধ থাকছে। একই সঙ্গে ভিনরাজ্য থেকে ঘরে ফিরে ১৪ কোয়ারান্টিনে থাকতে হচ্ছে। অর্থনীতির অধ্যাপক পঙ্কজকুমার দেবনাথ বলেন, কনটেইনমেন্ট জোন গুলির সাধারণ মানুষ  কাজকর্ম করতে পারছেন না। এরফলে অর্থনীতিতে অবশ্যই প্রভাব পড়বে।