করোনা রোগী নিয়ে চলছে নার্সিংহোমের ব্যবসা, সাহায্যের আর্জি পরিবারের

117

জঙ্গিপুর: সারা দেশে করোনা অতিমারির কারণে নাজেহাল পরিস্থিতি। কেন্দ্র স্বাস্থ্যদপ্তর সহ রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর মানুষকে এই অতিমারির দাপট থেকে বাঁচাতে তৎপর। এদিকে করোনা রোগীদের নিয়ে রীতিমতো ব্যবসা শুরু করেছে জঙ্গিপুরের বেশ কিছু নার্সিংহোমগুলি। করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোনও রোগী যদি এই সমস্ত নার্সিংহোম গুলিতে ভর্তি হচ্ছে তাহলেই শুরু হচ্ছে রোগীর পরিবারের থেকে টাকা নেবার তোড়জোড়। একবার রোগী ভর্তি করার পর থেকে বাড়তে থাকছে সেখানকার বিল। একদিকে অক্সিজেনের সংকটতে ধুকছে গোটা দেশ। আর সেই অক্সিজেন নিয়ে সমস্ত নার্সিংহোমগুলির ব্যবসা চলছে। কোথাও রোগীদের থেকে নেওয়া হচ্ছে ঘণ্টা প্রতি ৩০০ টাকা, আবার কোথাও নেওয়া হচ্ছে ঘণ্টা প্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। কোনও রোগীর পরিবার থেকে সব মিলে বিল নেওয়া হচ্ছে ২৫ হাজার টাকা আবার কারো থেকে নেওয়া হচ্ছে এক লক্ষ টাকারও বেশি।

মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের জেঠিয়া গ্রামের এক বাসিন্দা গৌতম দাস করোনা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন রঘুনাথগঞ্জের গাড়ি ঘাটের একটি নার্সিংহোমে। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, গত ২ মে প্রথমে ভর্তি করা হয় তাঁকে। পরের দিন ৩ মে ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগে আমাদের বলা হয় বিল হয়েছে ২৫ হাজার টাকার কাছাকাছি। আরও টাকা জমা না দিলে রোগীর আর চিকিৎসা করা যাবে না। বাধ্য হয়ে আমরা সেখান থেকে রোগীকে ছুটি করিয়ে নিয়ে আবার সরকারি হাসপাতালে কোনওরকমে ভর্তি করাই। অপরদিকে, রঘুনাথগঞ্জের তালাইয়ের বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি থাকা জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার এক কর্মী রঘুনাথগঞ্জের বলীঘাটার বাসিন্দা অমল চক্রবর্তীর স্ত্রী কমলা চক্রবর্তী অভিযোগ করে বলেন, প্রথমে তাঁর জ্বর হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে আমরা তাঁর করোনা পরীক্ষা করাই গত ৫ মে। কিন্তু সেরাতেই তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বলে আমার তালাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে ভর্তি করার সময় আমাদের বলা হয়েছিল অক্সিজেনের জন্য ২০০ টাকা দিনপ্রতি লাগবে এবং বেড ভাড়া দিনপ্রতি দুই হাজার টাকা। যদি সরকারিভাবে কোনও সাহায্য পেতাম কোনও সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার তাহলে ভালো হত।’

- Advertisement -

জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রশান্ত বিশ্বাসকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। যদিও বিষয়টি জানার পরে জেলা প্রশাসনকে জানাবেন বলে জানিয়েছেন জঙ্গিপুরের মহকুমা শাসক নিতু সিংলা।