করোনার সফট টার্গেট হচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মী সহ প্রথম সারির যোদ্ধারাই

292

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে যারা রয়েছেন কোভিড-১৯ ভাইরাসের সফ্ট টার্গেট এরাই। এদের কেউ ডাক্তার, কেউ নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মী। গড়পরতা মানুষের থেকে এরা অনেক বেশি স্বাস্থ্য সচেতন। অনেক বেশি সাবধান। শুধু এটুকু বললেই যথেষ্ট নয়, করোনা ভাইরাস কতটা মারাত্মক ছোঁয়াচে সে বিষয়েও সচেতন। তাই এই ঘটনা বাড়ছে। স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক আর উদ্বেগ গ্রাস করছে মানুষকে। ঘুরেফিরে একটা প্রশ্ন বারবার সামনে আসছে ডাক্তারই যদি রোগী হন? হাসপাতালে ভর্তি হন? তবে আমজনতা কতটা নিরাপদ?

ডাঃ নারায়ন চন্দ্র পালের কথায়, প্রবীণ চিকিৎসক বা যারা হাই প্রেসার, ব্লাড সুগার বা অন্য কোনও রোগে ভুগছেন বা নিয়মিত ওষুধ খাচ্ছেন তাদের আপাতত রোগী দেখা বন্ধ রাখাই ভালো। ডা.পালের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন লকডাউন যত শিথিল হবে ততই সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়বে। তাই ডাক্তার, নার্স আর স্বাস্থ্যকর্মীদের অস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি নিজেকে রক্ষার সমস্ত ব্যবস্থা নিয়েই করোনার বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখতে হবে।

- Advertisement -

এদিকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের একের পর এক নার্স স্বাস্থ্যকর্মী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আক্রান্ত হয়ে কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অনেকে আবার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী সাফাই কর্মীদের করোনা সংক্রমিত হওয়ায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরে। এদিন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দপ্তরের এক স্বাস্থ্যকর্মী করোনা সংক্রমিত হয়ে গতকাল ভর্তি হয় তার অবস্থা ক্রমশ অবনতি হওয়ায় শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করে কোভিড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার নাগাদ আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই স্বাস্থ্যকর্মীকে নিয়ে কোভিড হাসপাতাল থেকে শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কোভিড হাসপাতালে সুপারিনটেনডেন্ট দিলীপ কুমার গুপ্তা বলেন,”ওই ব্যক্তির হাই প্রেসার, সুগার নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেও বিফল হতে হয়েছে। এছাড়া শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হচ্ছে সেই কারণেই শিলিগুড়িতে রেফার করা হয়েছে।

মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান বলেন,”আমাদের দপ্তরে একজন কর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছে। তার অবস্থা ক্রমশ অবনতি হওয়ায় শিলিগুড়ি একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের কোভিড হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।” রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে করোনা সংক্রমিত হয়ে আইসোলেশন এ ভর্তি রয়েছেন ছয়জন। রায়গঞ্জের কোভিড হাসপাতালে বেড না থাকায় অধিকাংশ দের ভর্তি করা হচ্ছে হেমতাবাদের সারি হাসপাতালে। কোয়ারান্টিনে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের এদিন লালার নমুনা সংগ্রহ করে ভিআরডিল্যাবে পাঠানো হয়। স্বাস্থ্য দপ্তরে কর্তাদের বক্তব্য, উপসর্গ হীনদের রাখা হচ্ছে হেমতাবাদের সারি হাসপাতলে। যাদের উপসর্গ রয়েছে এবং শ্বাসকষ্ট রয়েছে তাদের কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।