করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি, এক সপ্তাহ টানা লকডাউনের সিদ্ধান্ত

302

জয়গাঁ: কালচিনি, হাসিমারা, হ্যামিল্টনগঞ্জের পর এবার ভুটান সীমান্ত শহর জয়গাঁয় লকডাউন শুরু হচ্ছে। ব্যবসায়ী সংগঠন জয়গাঁ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সহ একাধিক সংগঠন মঙ্গলবার বিকেলে বৈঠক করে জয়গাঁর সম্পূর্ণ লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাবসায়ী সংগঠন সূত্রে খবর, ২ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত জয়গাঁয় লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

লকডাউনের সিদ্ধান্ত জয়গাঁ থানার পুলিশ ও জয়গাঁ উন্নয়ন পর্ষদকে জানান হয়েছে বলে জানিয়েছেন জয়গাঁ মার্চেন্ট অ্যাসোসিশনের সাধারণ সম্পাদক রামাশংকর গুপ্তা। তিনি বলেন, জয়গাঁর বিভিন্ন ব্যাবসায়ি সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জয়গাঁয় করোনা সংক্রমন ঠেকাতে মিলিত ভাবে এক সপ্তাহের লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লকডাউন চলাকালীন জয়গাঁ শহরের বুকে রাতে যান চলাচল না করে তার জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান হয়েছে।

- Advertisement -

কালচিনি ব্লকে সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও প্রশাসন উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। জয়গাঁয় সম্প্রতি দুজন করোনা আক্রান্তের হদিস মেলায় উদ্বেগের পারদ আরও চড়েছে। জয়গাঁ ছাড়ায় পুরানো হাসিমারায় ৮ জন, হ্যামিল্টনগঞ্জে ১জন ও কালচিনিতে ৪ জন বাসিন্দা। সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

এছাড়াও মধু, সাতাশি, মেচপাড়া ও চুয়াপাড়া চা বাগানেও করোনা আক্রান্তের হদিস মিলেছে। সব মিলিয়ে কালচিনি ব্লকে সম্প্রতি করোনার থাবা পড়তে শুরু করায় পুরানো হাসিমারা, হ্যামিল্টগঞ্জ ও কালচিনিতে স্থানীয় ব্যাবসায়ী সমিতির তরফে লকডাউন চলছে। প্রথম দিকে সাধারণ মানুষ লকডাউন ও স্বাস্ব্য বিধি না মানলেও ব্লকে একাধিক করোনা আক্রান্তের খবরে ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে শুরু করেছেন। যদিও ইতিমধ্যে কয়েকজন করোনা আক্রান্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, জয়গাঁর বাসিন্দাদের তরফে জয়গাঁয় পূর্ণ লকডাউনের দাবি উঠতে শুরু করে। সেই দাবি মেনেই সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে জয়গাঁয় লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ব্যাবসায়ী সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে। তবে ভুটানগামী ভিন রাজ্যের ট্রাক জয়গাঁর ওপর দিয়ে চলাচল করার ছাড়পত্র পাবে কিনা তা প্রশাসনের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যাবসায়ী স়ংগঠন জানিয়েছে।

উল্লেখ্য ভুটানগামী ভিন রাজ্যের ট্রাক চালকরা জয়গাঁ ও স়ংলগ্ন এলাকায় অবাধে ঘুরে বেড়ানোয় এলাকার বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ ওই ট্রাক চালকদের মধ্যে কেউ করোনা আক্রান্ত হয়ে থাকলে তার মাশুল গুনতে হবে জয়গাঁবাসীকে।কিন্তু বিষয়টির সঙ্গে আন্তর্জাতিক বানিজ্য জড়িত থাকায় ব্লক প্রশাসন সরাসরি কোন পদক্ষেপ করতে পারছেনা বলে ব্লক প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।