যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে করোনা আতঙ্ক

297

রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: ঘরের ভেতর থেকে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে শুক্রবার দুপুরে আসানসোল দক্ষিণ থানার গোধূলি রোডে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। মৃত যুবকের নাম রাজু রায়(৩৬)। ওই যুবক করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে, এমন খবরে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। এলাকার বাসিন্দারা যাতে আতঙ্কিত হয়ে না পড়েন, এজন্য আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ আসানসোল পুরনিগমের শববাহী গাড়ীতে বিশেষ প্লাস্টিকে মুড়ে যুবকের দেহ জেলা হাসপাতালের এমারজেন্সি বিভাগে নিয়ে আসে। যারা দেহ আনেন তারাও পিপিই পড়েছিলেন।

এমারজেন্সি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানান, ২৪ ঘন্টারও বেশি সময় আগে এই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তবুও, নিশ্চিত হওয়ার জন্য মৃত যুবকের লালা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করেছে জেলা হাসপাতাল কতৃপক্ষ। সেই পরীক্ষার রিপোর্ট শুক্রবার রাতের মধ্যে পাওয়া যাবে। তাই এদিন মৃতদেহর ময়নাতদন্ত হয়নি। শনিবার তা করা হবে। যদিও স্বাস্থ্য দপ্তর জানায়, আইসিএমআরের গাইড লাইনে বলা রয়েছে, মৃত্যুর ৬ ঘন্টার মধ্যে লালার নমুনা পরীক্ষার জন্য নেওয়া যেতে পারে। তারপর নেওয়া লালার পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তি নেই। এক্ষেত্রে এই মৃত যুবকের লালার নমুনা কেন পরীক্ষা করা হচ্ছে, তা জানা যায়নি।

- Advertisement -

এদিকে, মৃত যুবকের বাড়ির আশপাশের এলাকা এদিন বিকেলে আসানসোল পুরনিগমের তরফে স্যানিটাইজেশন করা হয়। জেলা হাসপাতালের এমারজেন্সি বিভাগও জীবাণুমুক্ত করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, রাজু রায় তার বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে থাকতেন। মা বিএসএনএলের প্রাক্তন কর্মী। রাজু কোনও কাজ করত না। প্রতিদিন মদ খেয়ে ঝামেলা করত। যে কারণে তার স্ত্রী ডিভোর্স দিয়েছে। রাজুর এক বোন স্বামী পরিত্যক্তা। সেই বোন মাঝে মধ্যে মায়ের কাছে আসত। কিন্তু ভাইয়ের জন্য সেখানে থাকত না।

তিনদিন আগে রাজু মদ খেয়ে বাড়িতে আসে। টাল সামলাতে না পেরে সে ঘরে পড়ে যায়। তারপর বিছানায় শুয়ে পড়ে। গত তিনদিন ধরে ছেলেকে একই অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বৃদ্ধা মা শুক্রবার সকালে এলাকাবাসীদের জানায়। তারা আসানসোল দক্ষিণ থানায় খবর দিলে পুলিশ আসে। পুলিশ আসানসোল পুরনিগমের শববাহি গাড়িতে করে রাজুকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসে।

অন্যদিকে, এই গোধূলি রোডেই সাবিত্রী সদন নামে একটি আবাসনে আরো এক ব্যাক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে। হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী ওই ব্যক্তি কিছুদিন আগে ঝাড়খণ্ডের গিরিডিতে গেছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনাতে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ওই আবাসন চত্বর ও আশপাশের এলাকা কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে স্যানিটাইজেশন করা হয়।

এদিকে, শুক্রবার বিকেলে আসানসোল জেলা হাসপাতালের আইসোলেশান ওয়ার্ডে দু’জনকে ভর্তি করানো হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, করোনার বেশ কিছু উপসর্গ দেখা দেওয়ায় চিকিৎসক তাদের ভর্তি করান। তাদের লালার পরীক্ষা করা হবে।