করোনা আতঙ্ক: শপিং মল খুললেও ক্রেতার দেখা নেই শিলিগুড়িতে

432

শিলিগুড়ি: সোমবার থেকে শিলিগুড়িতে শপিং মল খুলল। তবে শপিং মলের সমস্ত দোকান খোলেনি। কর্মচারি ও ভাড়া সংক্রান্ত সমস্যার কারণে অনেকেই দোকান খোলেননি বলে জানা গিয়েছে। করোনা আতঙ্কের কারণে  এদিন মলগুলিতে সেরকম ক্রেতাও পড়েনি। স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যবস্থা করা হলেও এদিন ক্রেতার দেখা না মেলায় হতাশ রেস্তোরাঁ ও হোটেল মালিকরা। কিছুটা হতাশ হলেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলেই মনে করছে মল কর্তপক্ষ ও রেস্তোরাঁ মালিকরা।

সোমবার মাটিগাড়ার একটি শপিং মলে ঢোকার আগে থার্মাল স্ক্রিনিং সহ স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রতিটি গেটে সেই ব্যবস্থা ছিল। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য ফুট প্রিন্টেরও ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু এত ব্যবস্থা থাকলেও এদিন সাধারণ মানুষের উপস্থিতি সেভাবে লক্ষ্য করা যায়নি। হাতে গোনা কয়েকজন ক্রেতা মলে এসেছেন।

- Advertisement -

অজয় রায় নামে একজন বলেন, ‘মল থেকেই জামাকাপড় কেনার অভ্যাস। মল খোলায় কিছুটা স্বস্তি মিলল।’ তবে এদিন মলের বেশ কয়েকটি দোকান বন্ধ ছিল। সংশ্লিষ্ট দোকানদাররা বলেন, ‘আমরা লকডাউনের সময়কার ভাড়া ও মেনটেনেন্স ফি কম করার জন্য মল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও কাজ না হওয়ায় আমরা দোকান বন্ধ রাখলাম।’ একই অভিযোগ করেন সেবক রোডের একটি শপিংমলের সিংহভাগ দোকানদার। ওই শপিং মলে এদিন বেশিরভাগ দোকানই বন্ধ ছিল। এবিষয়ে অবশ্য সংশ্লিষ্ট মল কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাটিগাড়ার শপিং মল কর্তপক্ষের তরফে যোগেশ প্রধান বলেন, ‘মল কর্তৃপক্ষের কিছু করার নেই। কারণ সংশ্লিষ্ট দোকানগুলি বিক্রি হয়ে গিয়েছে। যাঁরা কিনেছেন তাঁরা ভাড়া দিয়েছেন। তাই এটা ভাড়াটে ও মালিকদের ব্যাপার।’ চেকপোস্ট সংলগ্ন শপিং মলেও কিছু দোকান বন্ধ ছিল। মল কর্তপক্ষের তরফে শান্তনু মুন্সি অবশ্য জানান, বন্ধ থাকা দোকানগুলির অধিকাংশ কর্মী বাইরে রয়েছেন। তবে সাতদিনের মধ্যে ওই দোকানগুলিও খুলবে।

অন্যদিকে, এদিন মলগুলিতে থাকা একটি পিৎজা প্রস্তুতকারী বাণিজ্যিক সংস্থার তরফে বসে খাওয়ার পরিবর্তে  পিৎজা নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। একই ব্যবস্থা করা হয়েছিল সেবক রোডের একটি রেস্তোরাঁতেও। রেস্তোরাঁ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা এক কর্মী বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক আমরা ১০ তারিখ থেকে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা করছি।

সেবক রোডে থাকা নামী একটি রেস্তোরাঁর ম্যানেজার সৌরভ দত্ত বলেন, ‘আমরা বসে খাওয়ারের ব্যবস্থা করছি। তবে লোকজন কম ছিল। তবে আশা রাখছি, দিন এগোনোর সঙ্গে খাদ্যরসিক মানুষের আনাগোনা বাড়বে।’ একই কথা জানিয়েছেন শহরের আরেকটি নামী হোটেলের মালিক রণবীর সিং শালুজা।