উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই, পথ অবরোধ করোনা আক্রান্ত রোগীদের

418

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: স্বাস্থ্য দপ্তর ও জেলা প্রশাসনকে জানিয়েও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সঠিক সময়ে খাবার, পর্যাপ্ত পানীয় জল ও স্থায়ী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের দাবিতে কোভিড হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে পথ অবরোধ শুরু করলেন করোনা আক্রান্ত রোগীরা।

করোনা আক্রান্ত রোগীদের অনেকেই বেড পাননি। মাটিতে শুয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই। বারংবার বলেও কোন সুরাহা হয়নি। হাই-অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খেয়ে রীতিমতো অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা। কারণ একটাই নিম্নমানের খাবার অপর্যাপ্ত জল। বেহাল শৌচাগার। রোজ যে খাবার তাদের দেওয়া হচ্ছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের এমনকি পানীয় জল ও ঠিকমতন মিলছে না বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

সোমবার বিকেলে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন করোনা আক্রান্ত রোগীরা। এদিন সকালের খাবার রাস্তায় ফেলে রীতিমতো বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে রোগীরা। স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিকের গাড়ি আসতেই রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েন করোনা আক্রান্ত রোগীরা।

কোনওক্রমে সেই গাড়ি নিয়ে পালিয়ে বাঁচেন সেই স্বাস্থ্যকর্তা। শুধু তাই নয় পুলিশ ও স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিককে ঘেরা করেও বিক্ষোভ চলছে। রায়গঞ্জের কর্ণজোড়া ক্রেতা সুরক্ষা ভবনের (কোভিড হাসপাতাল) নিম্নমানের খাবার দেওয়ার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাল করোনা আক্রান্তরা।

সোমবার কোভিড হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে কর্ণজোড়া ফাঁড়ির পুলিশ। তাতেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এদিকে করোনা আক্রান্তরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখানোয় রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পথচলতি মানুষরা।

করোনা আক্রান্ত রোগীদের অভিযোগ, ক্রেতা সুরক্ষা ভবনের খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রোগীরা। তাদের বক্তব্য, সকালে দুটো রুটি দিয়েছিল। সাড়ে তিনটা বেজে গেলেও দুপুরের খাবার না আসায় রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তাদের অভিযোগ, খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের, অস্বাস্থ্যকর ও অপরিষ্কার সোমবার সকালে জলখাবারে যে দুটো রুটি দেওয়া হয়েছিল তার সঙ্গে মাটির দলাও ছিল।

দুপুরে ও রাতে যে পরিমাণ ভাত ডাল তরকারি দেওয়া হয় তাতে করণা আক্রান্ত রোগীদের পেট ভরে না। যেখানে পাঁচ লিটার জল খাওয়া বাধ্যতামূলক সেখানে সারাদিনের জন্য ৫০০ মিলি লিটার জল দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরাও রোগীদের ঘরে আসেনা। ফোনের মাধ্যমে শুনেই ওষুধ দেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা ও করোনা আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে না বলে রোগীদের অভিযোগ।

ক্রেতা সুরক্ষা ভবনে অবস্থিত কোভিড হাসপাতালে ৬০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে ৬০-৭০ বছরের বৃদ্ধ বৃদ্ধা রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে। সিভিক ভলেন্টিয়ার স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মী ও রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের নিরাপত্তারক্ষীরাও। রায়গঞ্জের বিডিও রাজু লামা বলেন, ‘দুপুরের খাবার দেরি হয়েছে। পরবর্তীতে যাতে দেরি না হয় ভেন্ডারদের সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়াও পর্যাপ্ত জল ও বাথরুম যাতে সাফাই হয় তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’