বাড়ির দরজা ভেঙ্গে করোনা আক্রান্তকে তুলে নিয়ে গেল স্বাস্থ্য দপ্তর

392

কুমারগঞ্জ: বাড়ির দরজা ভেঙ্গে করোনা আক্রান্তকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হল কোভিড হাসপাতালে। শুক্রবার সকালে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের সাফানগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ঘটনা। কার্যত নাটকীয় ভাবে পুলিশ, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের উপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় মানুষজন বাড়ির দরজা ভেঙ্গে করোনা আক্রান্তকে বালুরঘাট নাট্য উৎকর্ষ কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য পাঠান।

কুমারগঞ্জ ব্লকে শুক্রবার নতুন ১০ জন করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। আক্রান্তরা সকলেই সাফানগর পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা বলে স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর। এই আক্রান্তদের সকলকে সেফ হাউসে নিয়ে যেতে এদিন এলাকায় আসেন স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মী-প্রশাসন। কিন্তু, তাদের মধ্যে এক মাঝ বয়সী ব্যক্তি বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র যেতে রাজি ছিলেন না। বাধ্য হয়ে বাড়ির দরজা ভেঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, গত ২১ জুলাই সাফানগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিশেষ শিবির করে মোট ৬৯ জন বাসিন্দার লালার নমুনা সংগ্রহ করে কুমারগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে ১০ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে কুমারগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে। তারপরেই আক্রান্তদের সেফ হাউসে নিয়ে যেতে আসে স্বাস্থ্য দপ্তর-প্রশাসন।

কিন্তু ওই ব্যক্তি বাড়িতেই থাকবেন বলে জেদ করে ঘরের দরজা, জানালা বন্ধ করে অপ্রাসঙ্গিক দাবি করেন। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্য কর্মীরা কুমারগঞ্জ থানায় খবর পাঠায়। পুলিশ আসার পরও ওই ব্যক্তিকে সেফ হাউসে যেতে রাজি করানো যায়নি। পরে উপস্থিত গ্রামবাসীরা ঘরের দরজার খিল ভেঙে জোর করে হাসপাতালের গাড়িতে তুলে দেন। পরে তাকে কুমারগঞ্জ সেফ হাউসের পরিবর্তে বালুরঘাট নাট্য উৎকর্ষ কেন্দ্রের সেফ হাউসে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

এদিকে করোনা সংক্রমণ কুমারগঞ্জ এলাকায় ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। পতিরাম গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন করোনায় সংক্রামিত হয়েছেন। পরিস্থিতি রীতিমতো উদ্বেগজনক। তবুও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বা সামাজিক দূরত্ব রক্ষার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের অধিকাংশের কোন রকম হেলদোল দেখা যাচ্ছে না।

পতিরাম রানী বাজার ও তালতলা মোড় বাস স্ট্যান্ডের মুখে প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ১০-১১ টা পর্যন্ত বসে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি সবজি মালের বাজার। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পাইকারি বাজারে আসেন। স্থানীয়দের দাবি, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন কঠোর হোক।