করোনা পজিটিভ মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ, তৃণমূলের বৈঠক নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

214

পুরাতন মালদা: এবার করোনায় সংক্রামিত হলেন জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ তথা জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি সরলা মূর্মূ। সংক্রমণ ধরা পড়েছে তার স্বামীরও। পুরাতন মালদার যাত্রাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের কোচপাড়ায় বাড়ি হলেও বর্তমানে জেলা পরিষদের কোয়ার্টারে আইসোলেশনে রয়েছেন তারা। কিন্তু তাদের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ার পরই উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন।

গত ২৬ জুন লালার নমুনা দেওয়ার পর রিপোর্ট আসার আগেই কীভাবে ২৭ তারিখ জেলাস্তরের এক দলীয় বৈঠকে যোগ দিলেন তিনি?  কেনই বা দলের তরফে কোনও রকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হল না? যদিও দলের তরফে জানানো হয়েছে, ওই বৈঠক হয়েছে স্যোশাল ডিসট্যান্সিং বজায় রেখেই।

- Advertisement -

পুরাতন মালদার বিডিও-র করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২৪ জুন। এরপরই তার সংস্পর্শে এসেছিলেন এমন ব্যক্তিদের লালার নমুনা সংগ্রহ করা হয় ২৬ জুন। পুরাতন মালদা বিডিও অফিস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল লালা। সেখানেই লালার নমুনা দেন মালদা জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি তথা বর্তমান মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ সরলা মূর্মূ  ও তার স্বামী।

এছাড়াও তৃণমূলের ব্লক স্তরের বেশ কিছু নেতাও সেদিন নমুনা দেন। মঙ্গলবার মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ ও তার স্বামীর সংক্রমণ ধরা পড়ে। সংক্রমণ ধরা পড়ে তারই ঘনিষ্ঠ অপর এক দলীয় কর্মীরও। তবে রিপোর্ট আসার আগেই ২৭ জুন জেলা পরিষদের বর্তমান সভাধিপতির আহ্বানে দলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেন তিনি।

ওই বৈঠকে জেলা তৃণমূল সভাপতি সমেত বড় মাপের অনেক নেতাই উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন  জেলার আটটি ব্লকের তৃণমূল প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, সহ সভাপতি ও ওই ব্লক গুলি থেকে নির্বাচিত জেলা পরিষদের সদস্যরা।

মঙ্গলবার মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের সংক্রমণ ধরা পড়তেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। জেলা পরিষদের অতিথি আবাসের সভাকক্ষে সেদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চাশেরও বেশি নেতা ও কর্মী। স্বভাবতই তাদের সংক্রমণের আশঙ্কাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। করোনা সংক্রামিত পুরাতন মালদার বিডিও-র সংস্পর্শে আসার কারণেই ২৬ জুন লালার নমুনা দিয়েছিলেন মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ।

কিন্তু তারপর কোয়ারান্টিনে না থেকে কেনই বা তিনি বৈঠকে যোগ দিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জানা গেছে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এক মন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরই জেলা পরিষদের সভাধিপতি ওই বৈঠক ডেকেছিলেন। জেলায় দলের সংগঠন মজবুত করার লক্ষ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয় বৈঠকে।

কিন্তু করোনা পরাস্থিতিতে এমন বৈঠক কি করাটা খুব জরুরি ছিল? অথবা বৈঠক কি অন্য কোনও ভাবে করা যেত না? এমন প্রশ্নই ঘুরেফিরে আসছে। যদিও শাসকদলের তরফে জানানো হয়েছে, ওই বৈঠকে স্যোশাল ডিসট্যান্সিং সমেত যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ” আমরা এই বিষয়ে সচেতন আছি। সেদিনের বৈঠক স্যোশাল ডিসট্যান্সিং বজায় রেখেই হয়েছে।”

তবে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাতে না চাইলেও ইতিমধ্যেই ওই বৈঠকে উপস্থিত অনেকেই আশঙ্কিত। এদিকে, কোনও রকম উপসর্গ না থাকায় সংক্রমণ ধরা পড়ার পর জেলা পরিষদের কোয়ার্টারেই নিজেদের আইসোলেশনে রেখেছেন মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ ও তার স্বামী।

জানা গেছে, তাদের পরিবারে সাত বছরের এক সন্তান ও গৃহ পরিচারিকা রয়েছেন। যেহেতু তারাও সংক্রামিতদের সংস্পর্শে এসেছিলেন তাই তাদেরও লালার নমুনা সংগ্রহ করা হবে।