বাংলা সীমানা কিশনগঞ্জে মিলল করোনা পজিটিভ আক্রান্ত

380
প্রতীকী ছবি।

সংবাদদাতা, কিশনগঞ্জ: বাংলা সীমানা কিশনগঞ্জে মিলল করোনা পজিটিভ৷ কিশনগঞ্জ রেল কলোনিতে বৃহস্পতিবার রাতে জেলার প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বলে জেলাশাসক ডা: আদিত্য প্রকাশ জানিয়েছেন৷

এই রোগীর সন্ধান পাওয়া যাওয়ার কারণে অরেঞ্জ জোন থেকে রেড জোনে পরিবর্তিত করা হয়েছে বলে জেলাশাসক জানান৷ রেল কলোনিকে জিরো গ্রাউন্ড ধরে শহরের তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধ এলাকাকে জেলা প্রশাসন সিল করে দিয়েছে৷ এই জেলা জুড়েইউ ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে৷ এদিন শহরের সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাংক বন্ধ করে দেওয়া হয়৷

- Advertisement -

এছাড়াও প্রশাসনের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত শহরের সমস্ত দোকানপাট-বাজার বন্ধ থাকবে বলে স্থানীয় মহকুমাশাসক জানান৷ তিনি শহরবাসীক ঘরে থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন৷ তিনি বলেছেন, লকডাউন সফল করার জন্য শহরবাসীকে আবেদন জানিয়েছেন৷ যদিও কেউ প্রশাসনের অনুরোধ না মানে, তবে লকডাউন ও আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে৷

জেলাশাসক জানান, আক্রান্ত ব্যক্তি সম্প্রতি বিহারের মধেপুরা থেকে স্থানীয় রেল কলোনির এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন৷ কিন্তু, আক্রান্ত ব্যক্তির সর্দি, কাশি, জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়৷ বুধবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জেলা প্রশাসনকে এই অভিযোগ জানান৷ বুধবারই স্বাস্থ্যকর্মীরা ওই ব্যক্তিকে মহিষবাথান সরকারি স্কুলের আইসোলেশন ওয়ার্ড ও কোয়ারান্টিনে ভর্তি করে৷ সেইদিন আক্রান্তের লালার নমুনা সংগ্রহ করে বিহারের দারভাঙা মেডিকেল কলেজে পাঠান হয়৷

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আক্রান্তের লালারসের রিপোর্ট পজিটিভ আসে বলে জেলাশাসক জানান৷ রাতেই করোনা আক্রান্ত রোগীকে মহিষবাথান কোয়ারান্টিন থেকে স্থানীয় বেসরকারি এমজিএম মেডিকেল কলেজে বিশেষ চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরিত করা হয়৷ একই সঙ্গে ওই ব্যক্তির আত্মীয়দের কোয়ারান্টিনে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়৷

অপরদিকে, শুক্রবার সকাল থেকেই প্রশাসনের পক্ষে পাড়ায় পাড়ায় বাঁশের ব্যারিকেড বাধার প্রস্তুতি শুরু হয়৷ কিন্তু প্রায় প্রতিটি পাড়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই বাঁশের ব্যারিকেড বেধে দেয়৷ কারণ, যাতে বহিরাগতরা পাড়ায় প্রবেশ করতে না পারে৷

অপরদিকে মহকুমা শাসক জানান, আক্রান্ত ব্যক্তি মাধপুর থেকে আসেন৷ কিন্তু মাধেপুরায় গাজিয়াবাদ থেকে আসা জনৈক আক্রান্তের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করেন৷ আর এরপরে কিশনগঞ্জ আসেন৷ সূত্র জানাচ্ছে, গান্ধীচকের একটি এটিএম থেকে বার কয়েক টাকাও তোলেন৷ মহকুমা শাসক জানান, আক্রান্তের মোবাইল নম্বর খতিয়ে দেখে ওনার সংস্পর্শে আসা কয়েকজনের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে৷ জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা মানুষদের খোঁজ শুরু করেছে বলে মহকুমা শাসক জানান৷