আমেরিকায় গিয়ে ফুচকা খাওয়ানো হল না, মন খারাপ মনোজিতের

447

দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি : আমন্ত্রণ এসেছিল আমেরিকার মিশিগান থেকে। দুর্গাপুজোয় প্রবাসী বাঙালিদের ফুচকা খাওয়াতে হবে। প্রস্তুতি হিসাবে পাসপোর্ট তৈরি থেকে শুরু করে, টাকার জোগাড়- সবকিছুই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বাধ সেধেছে করোনা। তাই মার্কিন মুলুকে গিয়ে ফুচকা খাওয়ানোর স্বপ্ন আপাতত পূরণ হচ্ছে না জলপাইগুড়ির মনোজিৎ রায়ের। বিদেশ যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় মন খারাপ তাঁর। তবে তিস্তাপাড়ের এই ফুচকা বিক্রেতা এখন এলাকার দুঃস্থ পরিবারগুলিকে সাহায্য করছেন। মনোজিতের মতে, বেঁচে থাকলে আমেরিকায় গিয়ে ফুচকা খাওয়ানোর সুযোগ আবার পাওয়া যাবে। এখন সব কিছুর আগে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে খাবার তুলে দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে। তিস্তাপাড়ের সারদাপল্লির বাসিন্দা মনোজিৎ রায়। তাঁর বাবা নদিয়াচাঁদ রায়ও ফুচকা বিক্রি করতেন। সংসারে অভাব থাকায় স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে বাবার সঙ্গে ফুচকা বিক্রিতে হাত লাগান মনোজিৎ। তবে প্রথম থেকেই নতুন কিছু করার নেশা ছিল তাঁর। ফুচকার আলুতে কীভাবে নতুন নতুন মশলা মিশিয়ে আরও সুস্বাদু করা যায়, তাই নিয়ে সর্বক্ষণ চিন্তাভাবনা চলত। আর সেই সব করেই জনপ্রিয়তা পান মনোজিৎ। এখন সিভিল ডিফেন্সের রেসকিউ টিমের ভলান্টিয়ার ও কৃষি বিপণন বিভাগের তিস্তা চেকপোস্টে অস্থায়ী কর্মী হিসাবে কাজ করলেও জুবিলি পার্কের ১ নম্বর স্পারে ফুচকার দোকান নিয়ে বসেন। তাঁর সঙ্গে থাকেন স্ত্রী রুম্পা। তবে লকডাউনে এখন সে সব বন্ধ। জলপাইগুড়ির বাসিন্দা, বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী কুন্তল বিশ্বাস বাড়ি ফিরে মনোজিতের ফুচকা খেয়েছিলেন। ডিসেম্বরে কুন্তলবাবু মনোজিৎকে ফোন করে জানান, এবার দুর্গাপুজোয় মিশিগানের কালামাজু শহরে গিয়ে প্রবাসীদের ফুচকা খাওয়াতে হবে। কুন্তলবাবুর প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান মনোজিৎ। তিনি বলেন, ফুচকার মূল বিষয় হল আলুতে মেশানোর জন্য মশলা। রান্নার শখ থাকায় ফুচকায় নতুন নতুন স্বাদের মশলা কীভাবে মেলানো যায়, তারই চেষ্টা করি। বাড়িতে বিভিন্ন অর্গানিক মশলা তৈরি করেছি। মনোজিৎ বলেন, জলপাইগুড়ি শহরের বহু মানুষ আমার দোকানে আসেন, ফুচকা খেয়ে প্রশংসা করেন। কুন্তলবাবুও ফুচকা খেয়ে প্রশংসা করেছিলেন। মনোজিৎ বলেন, আমেরিকা যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট তৈরি করা সহ প্রয়োজনীয় টাকাপয়সা জোগাড় শুরু করেছিলাম। কিন্তু এখন করোনার জন্য সব বন্ধ। লকডাউনে ফুচকা বিক্রিও বন্ধ। অস্থায়ী চাকরিতে যেটুকু বেতন পাই, তাই দিয়ে সংসার চালাচ্ছি।