রায়গঞ্জ মেডিকেলের পাঁচ চিকিৎসকের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ

ফাইল ছবি

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: বিনা অনুমতিতে কলকাতায় ছুটিতে চলে যাওয়া রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পাঁচ চিকিৎসককে ফিরে আসতেই শো-কজের চিঠি ধরিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি তাঁদের পাঠানো হয়েছিল কোয়ারান্টিনে।

সেই পাঁচ চিকিৎসকের লালা অর্থাৎ সোয়াব টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছিল মালদা ও উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে। গতকাল গভীর রাতে ইমেইল মারফত তাঁদের রিপোর্ট আসে। ওই পাঁচ চিকিৎসকের সোয়াব টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ হওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার থেকেই রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায়।

- Advertisement -

তিনি বলেন, ওই পাঁচ চিকিৎসকের সোয়াব টেস্ট পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। গতকাল রিপোর্ট এসেছে। নেগেটিভ হওয়ার কারণে তাঁদের কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের ২০ জন চিকিৎসক ও ছয় জন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে রাজ্য স্বাস্থ্যভবনে তালিকা বানিয়ে পাঠানোর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এ খবর প্রকাশিত হতেই ওই ২০ জন চিকিৎসক ও ছয় জন স্বাস্থ্যকর্মী রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় ফোন মারফত যোগাযোগ শুরু করে। পাশাপাশি বিশেষ গাড়ি করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন ওই ২০ জন চিকিৎসক ও ছয় জন স্বাস্থ্য কর্মী।

মেডিকেল কলেজের সহকারি অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, “চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা মেডিকেল কলেজের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁরা আসলে তাঁদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। তাঁদের যাবতীয় পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” উল্লেখ্য, মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ছেড়ে প্রায় ২০ জন চিকিৎসক ও ছয় জন স্বাস্থ্যকর্মী কলকাতায় চলে যান। তাঁদের বারংবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ মারফত মেডিকেল কলেজে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তাঁরা যোগাযোগ করেননি।

এরপরেই ওই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে তালিকা বানিয়ে রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনে পাঠায় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এ খবরটি প্রকাশিত হতেই হইচই শুরু হয়ে যায় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অন্দরমহলে। তারপরেই একে একে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পাশাপাশি বিশেষ করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

৫ দিন আগে কলকাতা ফেরত মেডিকেলের এক চিকিৎসক এবং এক নার্স সহ তিনজনকে কর্ণজোড়া সরকারি কোয়ারান্টিন সেন্টারে রেখে তাঁদের লালা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। যদিও তাঁদের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের তিনজনের সঙ্গে থাকা উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ২৭ জন চিকিৎসকের লালার নমুনার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে বলে ‘ভাইরাস রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক’ ল্যাবরেটরি সূত্রে জানা গিয়েছে।

ফলে অনেকটাই স্বস্তিতে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করেন উত্তরবঙ্গের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি ডাঃ সুশান্ত রায়। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান বলেন, “আতঙ্কের কোন কারণ নেই। এদিন পর্যন্ত সমস্ত রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। জেলায় কমপক্ষে আরও ৩০০ ব্যক্তির লালা পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি বড় অংশই ভিন জেলার বাসিন্দা। অধিকাংশই মূলত কলকাতা বা শহরতলি এলাকায় থাকেন। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে এই ব্যাপারে চাপে রেখেছিলেন। সেই চাপে পড়েই চলতি মাসের ৩ তারিখ একটি নির্দেশিকা জারি করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এদিন সমস্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ফোন মারফত যোগাযোগ করায় তাদের বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপ কুমার পাল বলেন, “একার সিদ্ধান্তে শোকজ অথবা সাসপেন্ড করা সম্ভব নয়। এছাড়া চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এদিন ফোন মারফত যোগাযোগ করায় সমস্ত বির্তকের অবসান হয়েছে। লকডাউনের জেরে চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যকর্মীরা নানা সমস্যার জেরে কলকাতায় আটকে ছিলেন।”