অসমে করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা কোচবিহারের ৬ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ

ফাইল ছবি

শিবশঙ্কর সূত্রধর, কোচবিহার: অসমের কোকরাঝাড়ে করোনা পজিটিভ এক যুবকের সংস্পর্শে আসা কোচবিহার-২ ব্লকের টাকাগাছের ছয়জনের লালার নমুনার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। গত ৭ মে তাঁদের লালার নমুনা উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। শনিবার সকালে তাঁদের রিপোর্ট এসে পৌঁছায়। কোচবিহারের জেলাশাসক পবন কাদিয়ান বলেন, ‘টাকাগাছের যে ছয়জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে তাঁদের প্রত্যেকের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। বক্সিরহাটের আরও পাঁচজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তাঁদের রিপোর্ট এখনো এসে পৌঁছায়নি।’

গত মঙ্গলবার রাতে টুইটার সহ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, ‘অসমের কোকরাঝাড়ের এক ব্যক্তির করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। ওই ব্যক্তি কিছুদিন আগেই কোচবিহার ঘুরে গিয়েছেন।’ এই তথ্য ছড়িয়ে পড়তেই কোচবিহার জেলায় আতঙ্ক ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হয় জেলা প্রশাসন। এরপর কোকড়াঝাড় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোচবিহার জেলা প্রশাসন। জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি ১৩ এপ্রিল অসমে পৌঁছেছিলেন। তিনি কোচবিহারের কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কালিম্পং জেলার মংপুতে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। লকডাউন শুরুর পর তিনি বক্সিরহাট হয়ে অসমে চলে যান। যদিও তাঁর কোচবিহারে থাকার কোনো অস্তিত্ব এখনও পর্যন্ত পায়নি জেলা প্রশাসন।

- Advertisement -

এদিকে কোচবিহার-২ ব্লকের টাকাগাছ গ্রামে ওই যুবকের সঙ্গে কাজ করা ছয়জনের হদিশ মেলে। ৭ মে তাঁদের লালার নমুনা শিলিগুড়িতে পাঠানো হয়। পাশাপাশি তাঁদের সরকারি কোয়ারান্টিন সেন্টারে রাখা হয়। শনিবার টাকাগাছের প্রত্যেকের রিপোর্ট নেগেটিভ আশায় আপাতত স্বস্তিতে জেলা প্রশাসন। এদিকে, বক্সিরহাটে আরও ৫ জনের খোঁজ মেলে, যারা কোকরাঝাড়ের ওই শ্রমিকের সংস্পর্শে এসেছিলেন। তাঁদেরও নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তাঁদের রিপোর্ট এখনো এসে পৌঁছায়নি।

সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন এলাকায় করোনা নিয়ে গুজব ছড়িয়েছে। টাকাগাছ, জামালদহ, বক্সিরহাট, মাথাভাঙ্গা সহ বেশকিছু জায়গায় গুজব ছড়ায় যে, ওই এলাকাগুলিতে নাকি করোনা ধরা পড়েছে। যদিও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোচবিহার জেলায় কারও করোনা ধরা পড়েনি। বর্তমানে কোচবিহার জেলা গ্রিন জোনে রয়েছে। ১৪১৪ জনের লালার নমুনা পরীক্ষা করা হলেও সকলেরই রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। শনিবার মোট ১৬৩ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। এদিন প্রায় ৫০০ জনের লালার নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।