অন্য রাজ্য থেকে এলে করোনা পরীক্ষা আবশ্যিক, নজরদারির দায়িত্বে আশাকর্মীরা

186
ফাইল ছবি

জলপাইগুড়ি : করোনার পুনঃপ্রভাবকে কেন্দ্র করে নয়া পদক্ষেপ করতে চলেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। রাজ্যের বাইরে থেকে নতুন কেউ আসছেন কি না সে ব্যাপারে কড়া নজরদারি থাকবে স্বাস্থ্য দপ্তরের। রাজ্যের বাইরে থেকে কেউ এলেই তার কোভিড পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নজরদারির দায়িত্বে থাকছেন আশাকর্মীরা। ইতিমধ্যে প্রতিটি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর বহির্বিভাগে যাঁরা আসবেন তাঁদের করোনা টেস্ট করা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে ভোটের ময়দান থেকে করোনার স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার করার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।

ওএসডি ডাঃ সুশান্ত রায় বলেন, আবার করোনা প্রকোপ শুরু হচ্ছে। এই মুহূর্তে জেলায় মারাত্মক কিছু না হলেও আমাদের সতর্ক থাকতে হচ্ছে। দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে সংক্রমণ বাড়ছে। পাড়া এবং মহল্লায় যাঁরা বাইরে থেকে আসবেন, তাঁদের কোভিড টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন লোক চোখে পড়লেই আশাকর্মীরা তাঁদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে টেস্ট করাবেন। রাজনৈতিক নেতাদের কাছে আমাদের আবেদন, তাঁরা যেন বিভিন্ন সভায় করোনা স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে দু-চার লাইন সচেতনতামূলক প্রচার করেন।

- Advertisement -

স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি জেলায় করোনার অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা ১৯। যার মধ্যে জলপাইগুড়ি পুরসভা এলাকায় হোম আইসোলেশনে আছেন ১৩ জন, ময়নাগুড়িতে ৩ জন, মেটেলির সেফ হাউসে ৩ জন এবং জলপাইগুড়ি বিশ্ববাংলা কোভিড হাসপাতালে ১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বাস্থ্যকর্তাদের বক্তব্য, দু’সপ্তাহ আগেও জেলার পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো ছিল। ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়াটা যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকরা মনে করছেন, সংক্রামিত হওয়ার পর হোম আইসোলেশনে থাকলেও সেখানে সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার একটা সম্ভাবনা থাকছে। যে কারণে এখন থেকে নতুন করে কেউ সংক্রামিত হলে তাঁকে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করানো হবে। অপরদিকে, দীর্ঘ প্রায় নয় মাস পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতেই পরিযায়ী শ্রমিকদের একটা বড় অংশ কাজের জন্য আবার ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। সামনেই নির্বাচন। ভোট দেওয়ার জন্য তাঁদের অনেকেই বাড়ি ফিরবেন। ফলে নতুন করে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকছে। যে কারণে কেউ বাইরে থেকে জেলায় ফিরলেই কোভিড টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।