রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পরেও সংকটে করোনামুক্তরা

1368

কলকাতা : রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পরেও করোনা জয়ী অনেকের পুরোপুরি সেরে উঠতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে  ছাড়া পাওয়ার পরেও তাঁদের অনেকের ফুসফুসে গুরুতর সমস্যা থেকে যাচ্ছে। অনেকের মধ্যে ঘুসঘুসে জ্বর, ক্লান্তি, মাথার যন্ত্রণা, কাশি, শ্বাসের সমস্যা, এমনকি জটিল ফুসফুসের রোগও থেকে যাচ্ছে। এর ফলে অনেককেই সংক্রমণ পুরোপুরি কেটেছে কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে বারবার করোনা পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অনেকের ক্ষেত্রে সেরে ওঠার পরেও আইসোলেশনে থাকার মেয়াদ ১০ থেকে ১৪ দিনের পরেও বাড়িয়ে দিতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয়  ও রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুয়াযী, কম উপসর্গের ক্ষেত্রে ২ সপ্তাহ ও গুরুতর উপসর্গের ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত অসুস্থতা থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

যেমন আকাশ সিং উপসর্গহীন কোভিড সংক্রামিত। তিনি ১৪ দিনের হোম আইসোলেশন শেষে জুলাই মাসের শেষের দিকে ডাক্তারকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা যাবে? ডাক্তার বলেছিলেন, প্রতিদিন তাঁর শরীরের তাপমাত্রা মাপতে। পরের ৯ দিন সন্ধ্যায় তাঁর তাপমাত্রা ছিল ৯৯ ডিগ্রি। কিন্তু কোনও ওষুধ ছাড়াই জ্বর নেমে যায়। এর ফলে তিনি ভয় পেয়ে যান এবং তাঁর পরিবারের অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে যাওয়ার ভয়ে দীর্ঘদিন আইসোলেশনে থেকে যান। তিনি বলেন, ৯ দিন সামান্য জ্বর থাকায় ডাক্তার আমাকে আবারও করোনা পরীক্ষা করাতে বলেন। আমি পরীক্ষা করাই। কারণ, আমি চাইনি আমার থেকে বাড়ির লোকের কোনও ক্ষতি হোক। পরীক্ষার রিপোর্ট অবশ্য নেগেটিভ এসেছিল। লেকটাউনের গৃহবধূ আস্থা শরাফ কোভিড নেগেটিভ হওয়ার ৩ সপ্তাহ পরেও গন্ধ ও স্বাদ ফিরে পাননি। প্রথমে তিনি আর পরীক্ষা করাতে চাননি। কিন্তু যখন দেখলেন ২৩ দিন পরেও স্বাদ-গন্ধের অনুভতি ফিরল না, তখন ডাক্তারের পরামর্শে তিনি আবার পরীক্ষা করান। রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পর নিশ্চিত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যান।

- Advertisement -

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসার কয়েকদিন পরে আচমকা করোনা সংক্রামিতের মৃত্যু হচ্ছে। আসলে সংক্রামিত হলে দীর্ঘদিন ফুসফুসে অক্সিজেন কম যায়। এর ফলে ফুসফুসে ক্ষতের সৃষ্টি হয়, অনেক সময় ফুসফুস আয়তনেও সংকুচিত হয়ে যায়। অনেক সময় ফুসফুসের ওই ক্ষত রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পরেও পুরোপুরি সারে না। সেজন্য করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পরও রোগীর শ্বাসকষ্ট থেকে যায়। আবার অনেক সময় পালমোনারি বা করোনারি ধমনিতে রক্ত জমাট বাঁধার কারণেও সংক্রমণমুক্ত হওয়ার পরেও আচমকা মৃত্যু হয়। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, বয়স্ক করোনা সংক্রামিতদের মধ্যে সেরে ওঠার পরেও দীর্ঘদিন উদ্বেগ ও অবসাদ থেকে যায়। তবে এবিষয়ে এদেশে এখনও তেমন গবেষণা হয়নি। তবে ডাক্তাররা বলছেন, সুস্থ হয়ে বাড়ি যাওয়ার পরও উপসর্গ থেকে যাচ্ছে।