মাল ব্লকের চা বাগানগুলিতে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে

368

বিদেশ বসু, মালবাজার: মাল ব্লকের চা বাগানগুলিতে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং বাগান কর্তৃপক্ষের তরফে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মাল ব্লকের ডামডিম চা বাগানে আরও ৪৮ জনের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মঙ্গলবার বাগানে ৪০২ জনের র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়েছে। তাতে ৪৮ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। বাগান সূত্রে জানা গিয়েছে, এরা মূলত বাগানের হাটখোলা লাইন নিবাসী। ডামডিম বাগান কর্তৃপক্ষ বাগানে করোনা সংক্রমণ পরীক্ষাতে জোর দিয়েছেন। মাল ব্লক স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানেই র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে।

- Advertisement -

বাগানের চিকিৎসক ডা: দেবাশিস সেনগুপ্ত জানান, সবমিলিয়ে ডামডিম চা বাগানে এখনও পর্যন্ত ৭৫৮ জনের র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট হয়েছে। যার মধ্যে ৬০ জনের করোনা সংক্রমণের হদিস মিলেছে। বাগান কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে। বাগানের কোয়ারান্টিন সেন্টারগুলিতে করোনা সংক্রামিত শ্রমিকদের আইসোলেশনে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাগানের ম্যানেজার আসিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা সমস্ত ক্ষেত্রেই যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছি। করোনা সংক্রমতদের আইসোলেশনে রাখা টেস্ট করা হচ্ছে। তাঁদের খাবার এবং ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।’ পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘বাগানের ঢোকার পথগুলিতে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা আছে। সেখানে যাতায়াতকারীদের তথ্য রেজিস্টারে নথিভুক্ত করা হচ্ছে। আমরা সকলকে সচেতন থাকতে বলছি। বাগানে কাজের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা হচ্ছে।’

এদিকে এদিন মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ১০০ জনের র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের করোনা সংক্রমণের হদিস মিলেছে। বাকি ৯০ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তাঁরা উপসর্গহীন। এদিন মাল শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের একজন মহিলা এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডে একজন ব্যক্তির করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এছাড়া সাইলি চা-বাগানের ২জন, রাঙ্গামাটি চা বাগানের একজন, নিদাম চা-বাগানের একজন, রানিচেড়া চা বাগানের একজন, চুনাভাটি এলাকার একজন, নিউ মাল এলাকার একজন এবং মালবাজারের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের একজনের অ্যান্টিজেন টেস্টে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

মালের বিধায়ক বুলু চিক বড়াইকের র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। সম্প্রতি, বুলুবাবুর গাড়ি চালকের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। তারপর থেকে বিধায়ক হোম আইসোলেশনেই ছিলেন। বুলুবাবু বলেন, ‘আমার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তবুও আপাতত আমি কিছুদিন বাড়িতেই থাকছি।’ তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক এদিন করোনামুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এদিকে সবমিলিয়ে মাল শহরে করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৩। এরমধ্যে ১৬৩ জন সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে করোনার অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা ৩৬। চারজন করোনা সংক্রামিতের মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে, মাল শহর বাদে মাল ব্লক এলাকায় করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮৪। মালের বিডিও বিমানচন্দ্র দাস বলেন, ‘মাল ব্লকে করোনা সংক্রমণে সুস্থতার হার ভালো। আমরা সমস্ত ক্ষেত্রেই যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছি।’