উত্তরবঙ্গে শুরু হল করোনার টিকাকরণ

193

উত্তরবঙ্গ ব্যুরো: দেশজুড়ে শুরু হল করোনার টিকাকরণ কর্মসূচি। শনিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ করোনার টিকাকরণের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় টিকাকরণ শুরু হয়। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও টিকাকরণ শুরু হয়েছে।

এদিন উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসাপাতাল এবং শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালেও টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হয়। টিকা নেন উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন বিধায়ক ডঃ রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য এবং তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা ভট্টাচার্য। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে প্রথম টিকা নিয়ে বেরোলেন অ্যাম্বুলেন্স চালক অশোক রায়। তিনি শিলিগুড়ির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রমোদ নগরের বাসিন্দা। তিনি জানান, তিনি সুস্থ আছেন এবং বাকিদেরও টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করবেন।

- Advertisement -

টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে জলপাইগুড়িতে। জেলা সদর হাসপাতালের পিপি ইউনিটে এদিন প্রথম টিকা নিলেন হাসপাতালের সাফাইকর্মী ভরত ডোম। গত ৩০ বছর ধরে তিনি হাসপাতালের সাফাই কাজের সঙ্গে যুক্ত। করোনার প্রথম থেকেই সামনের সারিতে থেকে নিজের দায়িত্ব পালন করে এসেছেন তিনি। এদিন জেলার পাঁচটি জায়গায় টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি জায়গায় ১০০ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। ধূপগুড়িতেও এদিন সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে প্রথম টিকা নেন হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী বীরেন্দ্রনাথ রায়(৫৫)। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক মিতালী রায়, উপ পুরপ্রধান রাজেশ কুমার সিং, অতিরিক্ত জেলা শাসক রঞ্জন চক্রবর্তী, সহকারি জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ শুভিদীপ বিশ্বাস, বিডিও শঙখদীপ দাস, বিএমওএইচ ডাঃ সুরজিৎ ঘোষ প্রমুখ। এদিন যিনি প্রথম টিকা নেন সেই স্বাস্থ্যকর্মী গত নভেম্বরে করোনা সংক্রামিত হয়েছিলেন। যিনি প্রথম টিকা দেন সেই স্বাস্থ্যকর্মী অপরাজিতা সাহাও সংক্রামিত হয়েছিলেন। টিকা নেওয়ার পর আধঘন্টা বিশ্রাম নেন বীরেনবাবু। তবে তার কোন শারীরিক সমস্যা না হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। মালবাজার হাসপাতালে প্রথম টিকা নিলেন হাসপাতালে খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক জিতু মণ্ডল। চিকিৎসকদের মধ্যে প্রথম টিকা নিলেন হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: নবজীবন মণ্ডল।

কোচবিহার জেলাতেও শুরু হল করোনার টিকাকরণ। কোচবিহার জেলার নয়টি কেন্দ্রে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এদিন সকালে এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে টিকা দেওয়া শুরু হয়। সেখানকার সাফাই কর্মী কনজয় হরিজন প্রথম টিকা নেন। টিকা যাঁরা নিচ্ছেন তাঁদের আধ ঘন্টা অবজারভেশনে রাখা হয়। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রনজিত ঘোষ, এমএসভিপি ডা: রাজীব প্রসাদ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। রনজিৎবাবু জানিয়েছেন, প্রথম অবস্থায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।

করোনা মোকাবিলায় সামনে থেকে কাজ করা আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের সাফাই কর্মী চন্দন বাসফোর জেলায় এদিন প্রথম টিকা নিলেন। এদিন আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে টিকাকরণের সূচনা হয়। প্রথমেই টিকা নেন সাফাই কর্মী চন্দন বাসফোর। এরপরই একে একে জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা টিকা নেন। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ গিরীশচন্দ্র বেরা বলেন, জেলার চারটি পয়েন্ট থেকে এদিন টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হল। প্রথম টিকা নিয়ে হাসপাতালের সাফাই কর্মী চন্দন বাসফোর বলেন, ‘করোনা শুরুর থেকেই কাজ করছি। অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু এদিন টিকা নেওয়ার একটা আলাদা অনুভূতি হল। সবার কাছে অনুরোধ করব সবাই এগিয়ে এসে করোনা মহামারিকে দূর করতে টিকা নিন।’ জানা গিয়েছে, এদিন আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল, যশোডাঙ্গা গ্রামীণ হাসপাতাল, ফালাকাটা গ্রামীণ হাসপাতাল এবং কুমারগ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালে করোনার টিকাকরণ শুরু হয়। ফালাকাটা গ্রামীণ হাসপাতালে টিকা নেন ফালাকাটার বিএমওএইচ ডাঃ পার্থসারথী কোয়েল। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় প্রায় সাড়ে এগারো হাজার স্বাস্থ্য কর্মীকে করোনার টিকা দেওয়া হবে। টিকার সাড়ে বারো হাজার ডোজ এসেছে।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রথম টিকা দেওয়া হয় চিকিৎসক প্রদীপ ধরকে। এদিন সকালে ভ্যাক্সিনেশন টিকাকরণ প্রক্রিয়া শুরুর সময় জেলা হাসপাতালে পিপি ইউনিটে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সহ অন্যান্য কর্তারা। এদিন বালুরঘাট ও গঙ্গারামপুর হাসপাতাল ছাড়াও, হরিরামপুর, কুশমন্ডি, হিলি গ্রামীণ হাসপাতাল এবং খাসপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও দেওয়া হয় করোনার টিকা। এদিন প্রতিটি সেন্টারে ১০০ করে মোট ৬০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পুরসভার এক কর্মীকে দিয়ে শুরু হল টিকাকরণের কাজ। এরপর টিকা নেন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ও জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। এদিন টিকাকরণকে কেন্দ্র করে তোড়জোড় শুরু হয় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মিনা, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কার্তিক চন্দ্র মণ্ডল, পুলিশ সুপার সুমিত কুমার প্রমুখ। টিকাকরণের কাজ ২৯ তারিখ পর্যন্ত চলবে।