প্রথম দিনেই বিধায়কদের টিকা নেওয়া নিয়ে বিতর্ক

502

বর্ধমান: প্রতীক্ষার অবসান। সারা দেশের পাশাপাশি শনিবার থেকে পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও করোনার টিকাকরণ শুরু হল। এদিন জেলার সাতটি কেন্দ্রে থেকে দেওয়া হল ভ্যাকসিন। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাফাইকর্মী সঞ্জয় মাঝিকে প্রথম ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। তাঁকে ভ্যাকসিন দেওয়ার সময়ে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা হাততালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান।

তবে, ভ্যাকসিন দেওয়া শুরুর প্রথম দিনেও বিতর্ক এড়াতে পারল না জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। প্রথম দফায় ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা থাকলেও জেলার ভাতার ও কাটোয়ার বিধায়কের এদিন ভ্যাকসিন নেওয়া নিয়ে চূড়ান্ত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যা নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন বিরোধীরা।

- Advertisement -

শনিবার ফুল দিয়ে সাজানো হয় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। কলেজের মূল গেট সহ বিভিন্ন জায়গায় ফুলের তোরণ লাগানো হয়। এদিন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ছাড়াও বর্ধমান পুরসভার ঝুরঝুরেপুল স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ভাতার স্টেট জেনারেল হাসপাতাল কালনা, কাটোয়া, পূর্বস্থলী ও মেমরি হাসপাতালে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি পর্যায়ে ১০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে। পূর্ব বর্ধমান জেলায় মোট ৩১,৫০০ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। প্রথম পর্যায়ের ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ হয়েছে।

বর্ধমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ সুহৃতা পাল জানান, ভ্যাকসিন নেওয়ার পর কেউ অসুস্থতা বোধ করলে তাঁর জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভ্যাকসিন দেওয়ার আগে গ্রহীতাকে প্রথমে ওয়েটিং রুমে বসিয়ে নাম নথিভুক্ত করা হয়। তারপর সবরকম ভাবে ব্যবস্থা তৈরি রেখে তাঁকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। ভ্যাকসিন দেওয়ার পর গ্রহীতাকে আধঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। এরমধ্যে তাঁর কোনও শারীরিক সমস্যা হচ্ছে কিনা, তাও লক্ষ্য করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের গাইডলাইন মেনেই ভ্যাকসিনের কাজ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মী সহ করোনা যোদ্ধাদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। যিনি ভ্যাকসিন নিতে এসেছেন তাঁকে সেন্টার থেকে প্রথমে হাতে স্যানিটাইজার দেওয়া হয়। তারপর তাঁর নাম যাচাই করে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।

দুই বিধায়ককে ভ্যাকসিন টিকাকরণ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তার সাফাইও এদিন দিয়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রণব রায়। এদিন ভাতারের বর্তমান বিধায়ক সুভাষ মণ্ডল, প্রাক্তন বিধায়ক বনমালী হাজরা ও কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় টিকা নেন। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ মহেন্দ্র হাজরা ও জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ জহর বাগদী এই টিকা নিয়েছেন। পাশাপাশি ভাতার পঞ্চায়েত সমিতির শাসকদলের দলনেতা বাসুদেব যশও এদিন টিকা নেন। তা নিয়েই বিতর্ক দেখা দেয়। বর্তমান ও প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিরা কোভিড ওয়ারিয়র কিনা বা তাঁরা ভ্যাকসিন পেতে পারেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সিএমওএইচ প্রণব রায় বলেন, ‘ওঁনারা প্রত্যেকেই কোনও না কোনও হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির সদস্য। হাসপাতালের সুখে দুঃখে তাঁরা অংশগ্রহণ করেন। তাই ওঁনারা ভ্যাকসিন পেতেই পারেন।’

যদিও ভাতার ও কাটোয়ার বর্তমান বিধায়ক ও ভাতারের প্রাক্তন বিধায়ক প্রথম দিন টিকা নেওয়া নিয়ে বিতর্কের কিছু দেখছেন না বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিরোধীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্ক তৈরি করছে।

ভাতার বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক বনমালী হাজরা বলেন, ‘এদিন আমি করোনার টিকা নিলাম।’ করোনা নিয়ে সরকার যে সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে চলার কথা বলেছে তা সবাইকে মেনে চলার উপদেশ দেন প্রাক্তন বিধায়ক।’
ভাতারের বর্তমান বিধায়ক টিকা নেওয়ার পর বলেন, ‘এদিন আমিও করোনার টিকা নিলাম। কোনরকম অসুবিধা হয়নি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সকলকে বিনা পয়সায় করোনার টিকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।’

বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ও একই সাফাই দিয়েছেন। বিজেপির পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি সন্দিপ নন্দী এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘এই রাজত্বে শাসকদলের নেতা, মন্ত্রী ও বিধায়করা সব বিষয়ে ক্ষমতা ভোগ করতে অতি উৎসাহী। কোভিড ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁরা যে একই ভূমিকা নেবেন সেটাই স্বাভাবিক। এদিন সেটাই হয়েছে।’