করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে হয়রানি রুখতে বাড়িতে গিয়ে কুপন দিয়ে আসবেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা

48

বর্ধমান, ২০ মে: করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য রাত থেকে লাইনে দাঁড়ানোর পরেও, হয়রানি অব্য়হত রয়েছে বলে বহুবার অভিযোগ উঠে আসছিল। আর সেই কারণে আশা কিংবা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিয়ে আসবেন করোনা ভ্যাকসিনের টিকা পাওয়ার কুপন। ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানি ঠেকাতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর। এই ব্যবস্থা প্রশাসন দ্রুত কার্যকর করুক এমনটাই দাবি করেছেন জেলার প্রবীণ বাসিন্দারা।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে,পূর্ব বর্ধমান জেলায় ৩৫টি কেন্দ্র থেকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ চলছে। এখনও পর্যন্ত সাড়ে ৬ লক্ষের উপর মানুষ ভ্যাকসিন নিয়েছেন। তার মধ্যে ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিতে এখনও বাকি আছে প্রায় চার লক্ষ মানুষ। ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য বহু মানুষ এমনকি প্রবীণরাও রাত থেকে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। তারপরেও অনেকেই ভ্যাকসিন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। আবার ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার সময়সীমা বেড়ে যাওয়ায়, আপাতত ভ্যাকসিন দেওয়াও বন্ধ রয়েছে। এরপর ভ্যাকসিন দেওয়া চালু হলে, সাধারণ মানুষ যাতে আর হয়রানির মধ্যে না পড়েন, সেজন্যই জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর বাড়ি বাড়ি ভ্যাকসিন পাওয়ার কুপন পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ কারা নিয়েছেন, সেই নামের তালিকাও প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে রয়েছে। তা দেখেই দ্বিতীয় ডোজের জন্য় কুপন দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

- Advertisement -

জেলাশাসক প্রিয়ঙ্কা সিংলা বলেন, ভ্যাকসিন পাওয়া নিয়ে মানুষজনকে চরম অসুবিধার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সেই কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, দ্বিতীয় ডোজ পাওয়ার নির্দিষ্ট দিনের আগে আশা, অঙ্গনওয়াড়ি বা এএনএম কর্মীরা ভ্যাকসিন গ্রহীতার বাড়িতে গিয়ে কুপন দিয়ে আসবেন। কোন দিন, কোন সময় ভ্যাকসিন নিতে কেন্দ্রে যেতে হবে, তাও কুপনে লেখা থাকবে। এতে জেলাবাসীর হয়রানি কমবে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রণব রায় বলেন, ভ্যাকসিন গ্রহীতাদের মোবাইল নম্বর রয়েছে। ভ্যাকসিন পাওয়ার বিষয়ে, তাঁদের মোবাইলে এসএমএস পাঠানো যায় কি না সেই বিষয়টি নিয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।