করোনা: ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বাধিক মৃত্যু

529
File Picture

নয়াদিল্লি: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে ভারতে। এবার করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে দেশে এক দিনে সর্বাধিক মৃত্যু হল।

মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৬২ জনের। এর আগে একদিনে এত মৃত্যু হয়নি দেশে। এর ফলে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৯৩৪। এরমধ্যে মহারাষ্ট্রে মৃত্যু হয়েছে ৩৬৯ জনের। গুজরাটে মৃত্যু হয়েছে ১৬২ জনের। সোমবার মুম্বইয়ে করোনায় আক্রান্ত আরও এক পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে ৩ সহকর্মীকে হারাতে হল মুম্বই পুলিশকে। মধ্যপ্রদেশও পিছিয়ে নেই। সেখানে মৃতের সংখ্যা শতকের ঘর পেরিয়েছে (১১০)। দিল্লিতে মৃত ৫৪।

- Advertisement -

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫৪৩ জন। এই নিয়ে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৯৪৩৫। তবে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬৮৬৯ জন। মহারাষ্ট্রে মৃতের মতো আক্রান্তের সংখ্যাও অন্য রাজ্যগুলির চেয়ে বেশি। সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৫৯০ জন। মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি গুজরাট, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানের করোনা পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। ওই রাজ্যগুলিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ৩৫৪৮, ৩১০৮, ২১৬৮ ও ২২৬২।

করোনা: ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বাধিক মৃত্যু| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

উত্তরপ্রদেশে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যথাক্রমে ১৯৫৫ ও ৩১। অন্ধ্রপ্রদেশের আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যথাক্রমে ১১৮৩ ও ৩১। এই পরিস্থিতিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দেশের ৫ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়ানোর জন্য সওয়াল করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বৈঠকে। স্থানভেদে কিছু ছাড় সহ লকডাউন ২১ মে পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের মঙ্গলবার সকালের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে এ পর্যন্ত বাংলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬৯৭। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১০৯ জন। অর্থাত্, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের হিসাবে রাজ্যে সক্রিয় করোনা রোগী ৫৬৮ জন। যদিও রাজ্য সরকারের গতকাল বিকেলের দেওয়া হিসেব বলছে, এ রাজ্যে সক্রিয় করোনা রোগী রয়েছেন ৫০৪ জন। মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১০৯ জন।

আরও পড়ুন: রিপোর্ট করোনা পজিটিভ, কলকাতায় ফের এক চিকিৎসকের মৃত্যু

এছাড়া তামিলনাড়ুতে মৃত ২৪ জন৷ পঞ্জাবে মৃত ১৮। এছাড়া জম্মু-কাশ্মীরে ৭, কেরলে ৪ এবং ঝাড়খন্ড, হরিয়ানায় ৩টি করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ৷ বিহারে করোনায় মৃত ২। মেঘালয়, হিমাচল, ওড়িশা, অসমে একটি করে মৃত্যুু হয়েছে৷ মে মাসের শেষদিকে সারা ভারতে করোনা সংক্রমণের ডাবলিং রেট (যতদিনে সংক্রমণ দ্বিগুণ হচ্ছে তার হার) কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২১ মার্চ ডাবলিং রেট ছিল ৩ দিন। লকডাউন চালু হওযার পর এখন তা ৮.৬ দিন হয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি এটা ১০ দিনে গিয়ে দাঁড়াবে বলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের ধারণা।

এদিকে করোনা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত পরিস্থিতিতেও বিতর্ক পিছু ছাড়ল না নরেন্দ্র মোদি সরকারের। বিতর্ক ঝেড়ে ফেলতে চিনের দুই সংস্থা থেকে কেনা র‍্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট কিটের বরাত বাতিল করে দিল কেন্দ্র। চিনা কিটগুলি ত্রুটিপূর্ণ বলে ইতিমধ্যে অভিযোগ উঠেছিল একাধিক রাজ্য থেকে। নানা রাজ্যের অভিযোগ পেয়ে কিটগুলির ব্যবহার সাময়িক বন্ধও রাখা হয়।

করোনা: ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বাধিক মৃত্যু| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

সোমবার ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চের (আইসিএমআর) রিপোর্ট উদ্ধৃত করে কেন্দ্র জানিয়েছে, চিন থেকে আসা কিটগুলি নিম্নমানের হওয়ায় সেগুলি দিয়ে ঠিকমতো ভাইরাস চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। সেই কারণে অর্ডার বাতিল করা হয়েছে। তবে এর জন্য ভারতের কোনও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে না বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র। কারণ, চিনের যে দুটি সংস্থার কাছ থেকে কিটগুলি কেনা হয়েছিল, তাদের এখনও পর্যন্ত একটি নয়া পয়সাও দেওয়া হয়নি।

রাজ্যগুলিকেও ওই কিট ব্যবহার করতে নিষেধ করেছে কেন্দ্র। আইসিএমআরও বিবৃতি দিয়ে গতকাল জানিয়েছে, গত ২৭ মার্চ গুয়াংঝৌ ওন্ডফো বায়োটেক এবং ঝুহাই লিভজন ডায়াগনস্টিকস নামের দুই চিনা সংস্থাকে ৫ লক্ষ টেস্ট কিট সরবরাহের অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেগুলি আসার পর ব্যবহার করতে গিয়ে ত্রুটি ধরা পড়ে। ওই বরাতে স্বাক্ষর করেছিল আইসিএমআর এবং আর্ক ফার্মাসিউটিক্যালস।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর তিনঘণ্টার ভিডিও কনফারেন্সে বোবার মতো বসেছিলাম: মুখ্যমন্ত্রী

চিনের থেকে বেশি দাম দিয়ে ওই কিটগুলি কেনা হয়েছে বলে আগে অভিযোগ উঠেছিল। এ নিয়ে দিল্লি হাইকোর্ট পর্যন্ত মামলা গড়ায়। জানা গিয়েছে, চিনের কাছ থেকে ২৪৫ টাকা দরে প্রতিটি কিট কিনলেও ভারত সরকারকে তা ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করে কিট আমদানিকারী সংস্থা ম্যাট্রিক্স।

হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, প্রতিটি কিট কেনার জন্য ৪০০ টাকার বেশি খরচ করা যাবে না। সেই বিতর্কের মধ্যে কিটের অর্ডার বাতিল করল কেন্দ্রীয় সরকার। এর আগে চিনের তৈরি টেস্ট কিট নিয়ে ব্রিটেন, স্পেন, চেক প্রজাতন্ত্র সহ অনেক দেশ প্রশ্ন তুলেছিল। কিটের কার্যকারিতা নিয়ে একই অভিযোগ তোলে পশ্চিমবঙ্গ ও রাজস্থান।