করোনার কুরুক্ষেত্র জয় করে ৩৮ দিন পর ঘরে ফিরলেন কানাই

প্রতীকী ছবি

কলকাতা: করোনার আতঙ্কে যখন বিশ্ববাসী দিশেহারা তখন কলকাতায় যেন কোথাও একটু আশার আলো ফুটে উঠেছে। টানা ৩৮ দিন ধরে করোনার সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে বাড়ি ফিরলেন দক্ষিণ কলকাতার এক ব্যক্তি। আর তাতেই আশার আলো আলো জেগেছে রাজ্যবাসীর মনে।

বিশ্বের মানুষ ক্রমে এগিয়ে যাচ্ছে করোনার ভ্যাকসিন তৈরির দিকে। আর তারই মাঝে অসংখ্য মানুষ অসম্ভবকে সম্ভব করে সুস্থও হয়ে উঠছেন। ৫৮ বছরের টালিগঞ্জের ওই বাসিন্দা কানাই মুখার্জী হলেন তার মধ্যে অন্যতম। ২৯ মার্চ করোনা সংক্রমণ নিয়ে তিনি ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকুরিয়ার আমরি হাসপাতালে।

- Advertisement -

দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শুক্রবার তিনি সুস্থ হয়ে ফিরলেন বাড়িতে। টানা ৩৮ দিন করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে তাঁকে থাকতে হয়েছে ভেন্টিলেশনে। তাও শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে হার মানেননি তিনি। সুস্থ হয়ে উঠেছেন। স্বাভাবিক কারণে তাঁর লড়াইয়ে উচ্ছ্বসিত সকলেই। আজ হাসপাতাল থেকে বিদায় দেওয়ার সময় সকলে তাঁকে হাততালি দিয়ে অভিবাদন জানাতে ভোলেননি।

‌এদিনের এই ঘটনাকে মিরাকল ছাড়া আর কি বা বলা যেতে পারে! টালিগঞ্জের বাসিন্দা ৫৮ বছর বয়সের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ওই কর্মী কলকাতা কেন সারা রাজ্যেই পরিচিত। ফুটপাতে অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকা কেউ হাসপাতালে যেতে পারছেন না, কাউকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে-সবকিছুরই ত্রাতা ছিলেন এই ব্যক্তি। তাঁর অ্যাম্বুলেন্স ছিল বহু মানুষেরই ভরসা। সকাল থেকে রাত ২৪ ঘন্টাই তাঁর অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকত।

সেই মানুষটিই ২৯শে মার্চ জ্বর, গায়ে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকুরিয়া আমরি হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে চিকিৎসকরা কোনরকম দেরি না করে দ্রুত তাঁকে ভেন্টিলেশনে ভর্তি করেন। কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস চালু করলেও তাঁর অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

এমনকি তার মাল্টিঅর্গান ফেইলিওরও হতে থাকে। তবে হাসপাতালের মেডিকেল টিম দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই শুরু করে। আর সেই লড়াইয়ের ফল মেলে গত ২ মে। ওইদিনই ৩৮ দিন ভেন্টিলেশনে লড়াই করার পর ওই ব্যক্তিকে বার করা হয় ভেন্টিলেশন থেকে। যদিও এরপরে আরও পাঁচ দিন এইচডিইউ–তে রাখা হয় তাঁকে। তারপর এদিন তাঁকে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফেরত পাঠানো হয়।

আমরি হাসপাতালের সিইও রূপক বড়ুয়া জানিয়েছেন, এটি সকলের কৃতিত্ব। হাসপাতালের চিকিৎসক ,নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী সহ সমস্ত ধরনের কর্মীরা একযোগে কাজ করার ফলে এই অভূতপূর্ব সাফল্য। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ৩০ মার্চ থেকে ২ মে পর্যন্ত তিনি ভেন্টিলেশনে ছিলেন। তারপর থেকে ছিলেন আংশিক ভেন্টিলেশনে। দিনের মধ্যে ১২ ঘণ্টা। তাঁর শারীরিক উন্নতির দিকে নজর রেখে তাঁকে ৫ মে এইচডিইউ–তে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। আর তারপর এদিনই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়।