করোনা যুদ্ধে জয়ী হলদিবাড়ির নার্সকে সংবর্ধনা

326

অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি: করোনা যুদ্ধে জয়ী হয়ে বাড়ি ফিরলেন হলদিবাড়ির বাসিন্দা তথা জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালের আক্রান্ত নার্স। সোমবার দুপুরে বাড়ি ফেরেন তিনি। বাড়ি ফিরতেই প্রশাসনিক কর্তারা পুষ্পস্তবক দিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা জানান। উপস্থিত ছিলেন মেখলিগঞ্জের বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান, বিডিও সঞ্জয় পন্ডিত, বিএমওএইচ ডাঃ তাপসকুমার দাস, আইসি দেবাশিস বসু সহ পুর স্বাস্থ্যকর্মীরা। ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়। রবিবার রিপিট টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় আজ জলপাইগুড়ি সারি হাসপাতাল থেকে তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়।

হলদিবাড়ির বিএমওএইচ ডাঃ তাপসকুমার দাস বলেন, ওই নার্স জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের সিস্টার-ইন-চার্জ। স্বাভাবিকভাবেই কর্তব্যের তাগিদেই রোগীদের সেবা করতে গিয়ে তাঁকে করোনা সংক্রামিতদের সংস্পর্শে আসতে হয়েছিল। স্বাস্থ্য কর্মী হওয়ায় নিজস্ব উদ্যোগে করোনা টেস্ট করতে গিয়ে ৬ দিন আগে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল তাঁর। উপসর্গহীন করোনা সংক্রামিত ছিলেন তিনি। তারপর থেকে তিনি জলপাইগুড়ি সারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পাশাপাশি তিনি জানান,ওই নার্সের সুস্থতার পাশাপাশি গাড়ির চালক, এক শিশু সহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের লালার নমুনা রিপোর্টও নেগেটিভ এসেছে। এতেই স্বতি ফেরে ব্লক প্রশাসনের।

- Advertisement -

মেখলিগঞ্জের বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান বলেন, হলদিবাড়ির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বপাড়ার বাসিন্দা ওই নার্সের সংক্রমণে উদ্বেগ ছড়িয়েছিল হলদিবাড়ি ব্লকজুড়ে। হলদিবাড়ি ব্লক তথা মেখলিগঞ্জ মহকুমায় এটিই ছিল প্রথম করোনা সংক্রমণ।

এদিকে ওই নার্সের স্বামী শহরের একটি র‍্যাশন দোকান ও পরিবারের অন্য এক সদস্য হলদিবাড়ি পুরসভার প্রধান করণিক হওয়ায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে হলদিবাড়ি প্রশাসনের মধ্যে। সে কারণে তাঁর বাড়ি ও সংলগ্ন এলাকাটি বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার করোনা পরীক্ষার জন্য আক্রান্ত স্বাস্থ্য কর্মীর বাড়ির চালক, একজন শিশু সহ মোট ১১ জন সদস্যের লালার নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

এই বিষয়ে বিডিও সঞ্জয় পণ্ডিত বলেন, ‘এদিন ওই নার্সের পরিবারের সদস্যদের লালার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট স্বাস্থ্য দপ্তরে এসে পৌঁছায়। পরিবারে সকলের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। স্বভাবতই ওই ঘটনায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে শহরবাসী। হলদিবাড়ির পাশাপাশি খুশি জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও।