করোনার থাবা, বন্ধ মালগাঁওয়ের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প

61

রায়গঞ্জ: করোনা অতিমারির কারণে দীর্ঘ একবছরের বেশি সময় ধরে দেশজুড়ে বন্ধ বিভিন্ন হস্তশিল্প মেলা, দেশ ও বিদেশের বাজারও খুলছে না। ফলে প্রভাব পড়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী কার্পেট শিল্পে। কাজের বরাত না থাকায় মালগাঁওয়ের কার্পেট শিল্প প্রায় বন্ধের মুখে। বিদেশের বাজারে সমাদৃত শিল্পীদের তৈরি কার্পেট বর্তমানে ঘরেই পড়ে রয়েছে। অনেকে কাজ হারিয়ে ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজে পাড়ি দিয়েছেন।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসতেই সবটাই যেন টালমাটাল অবস্থা। করোনা সংক্রমণ রোধে কার্যত লকডাউন শুরু হতেই আবার বন্ধ উৎপাদন, অন্যদিকে ট্রান্সপোর্ট বন্ধ থাকায় উৎপাদিত কার্পেটে জমছে ধুলো। দেশীয় বাজারেও ব্যপক মন্দা দেখা দিয়েছে। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হস্তশিল্প মেলাগুলি হত সেগুলিও গতবছর থেকে বন্ধ। ফলে চরম আর্থিক সংকটে জেরবার মালগাঁওয়ের কার্পেট শিল্পীরা।

- Advertisement -

মালগাঁও গ্রামের কয়েকশো বাসিন্দা কার্পেট শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই তৈরি হয় সুদৃশ্য কার্পেট। বাইরে থেকে ব্যবসায়ীরা এখানকার কার্পেট শিল্পীদের নিপুণ হাতে তৈরি কার্পেট কিনে নিয়ে যান। আবার অনেকে কার্পেটের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল শিল্পীদের সরবরাহ করেন। তবে, কার্পেট তৈরির কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে প্রায় পাঁচশো শিল্পী ও তাঁদের পরিবার। কাজ হারিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।

কার্পেট শিল্পী আবু তাহের জানান, কার্পেট শিল্প প্রায় ধ্বংসের মুখে। বিভিন্ন জায়গায় বহুবার দরবার করেও কোনও লাভ হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে জেলার ঐতিহ্যশালী কার্পেট শিল্পটাই বন্ধ হয়ে যাবে।

বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ধনেশ্বর বর্মণ বলেন, ‘কার্পেট শিল্পে কাজ না থাকায় সমস্যায় পড়েছেন বহু শিল্পী ও শ্রমিকেরা। আমার অঞ্চলের বহু মানুষ এই শিল্পে যুক্ত। সরকার থেকে বিশেষ উদ্যোগ নিলেই একমাত্র শিল্পকে বাঁচানো সম্ভব।’