বেজিং, ২৪ জানুয়ারিঃ করোনা ভাইরাস সংক্রমণে চিনে মৃত ২৫। সংক্রামিত রোগীর সংখ্যা ৮০০-এরও বেশি। শুক্রবার একথা সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।

জানা গিয়েছে, অজানা এই ভাইরাসটি প্রথম ছড়ায় উহান শহরে। সেখানে কাঁচা মাংস বিক্রির বাজার থেকে ভাইরাস ছড়িয়েছে। এরপরই এই ভাইরাস উহান সহ চিনের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার অবধি এই ভাইরাস জনিত রোগে চিনে মৃত্যু হয়েছিল ৬ জনের। বুধবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯। থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ানেও এই ভাইরাস সংক্রমণের খবর মিলেছে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, আক্রান্তরা সম্প্রতি চিনের উহান বা অন্যান্য প্রদেশে গিয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভাইরাসের প্রকৃতি, স্বভাব এখনও অনেকটাই আড়ালে রয়েছে। উহান থেকে যাঁরা বাইরে গিয়েছেন তাঁদের অনেকেই ভাইরাসের সংক্রমণ নিজের শরীরে বহন করে নিয়ে গিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে বিজ্ঞানীদের ধারণা, পশু-পাখির থেকেই এই ভাইরাস বাসা বেঁধেছে মানুষের শরীরে। এই ভাইরাস মানুষ ও প্রাণীদের ফুসফুসে সংক্রামিত হতে পারে। তবে অনুমান করা হচ্ছে, ভাইরাসজনিত ঠাণ্ডা বা ফ্লুর মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষের দেহে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাস সংক্রামিত হওয়ার প্রধান লক্ষণ হল শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি। শেষে শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। ভাইরাসটি এর আগে শনাক্ত না হওয়ায় এখনই এর কোনো প্রতিষেধক নেই। ফলে রোগীকে আলাদ রেখে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসা নেই।

প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাস সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই জরুরি সতর্কতা জারি করছে চিন। শুধু উহানেই আরও ৪,০০০ সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। উহান থেকে উড়ান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি শহরের ভিতরেও বাস, ট্রেন বিভিন্ন গণপরিবহণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নাগরিকদের যথাসম্ভব ভিড় এড়িয়ে চলতে অনুরোধ করা হয়েছে। উহানের পাশাপাশি হুয়ানগং প্রদেশে সভাসমাবেশ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিনের হুবেই প্রদেশে করোনা ভাইরাস আরও ৬২ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। এমনকি মালয়েশিয়ার এয়ার এশিয়া, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স উহানগামী উড়ান অনির্দিষ্টকালের জন্য বাতিল করেছে।

জেনেভায় এই নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WH0)-র তরফে একটি বৈঠকও করা হয়। সংস্থার তরফে সমস্ত দেশকে কিছু নির্দেশিকা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, করোনা ভাইরাস ধীরে ধীরে ভারতেও অগ্রসর হচ্ছে। সৌদি আরবের আভা শহরের আল হায়াত আন্তর্জাতিক হাসপাতালে কর্মরত এক কেরলীয় নার্সের শরীরে এই ভাইরাস সংক্রামিত হয় বলে খবর। এদিকে বিষয়টি জানাজানির পরই উপযুক্ত পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়ে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন জরুরি চিঠি লেখেন বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শংকরকে। যদিও এখনই উদ্বেগের কিছু নেই বলে ভারতীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছে। বেজিংয়ে ভারতীয় দূতাবাসের তরফে উহান সহ অন্যান্য এলাকায় বসবাসরত ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে৷ পাশাপাশি সবরকম সাহায্যের জন্য +8618612083629 ও +8618612083617, এই দু’টি হটলাইন নম্বর দুটি চালু করেছে ভারতীয় দূতাবাস৷