করোনা আক্রান্তের চিকিৎসার ওয়ার্ড চালু বর্ধমান মেডিকেলে

441

বর্ধমান, ৬ মার্চঃ বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি ভারতেও ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস আতঙ্ক। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গোটা দেশের পাশাপাশি এ রাজ্যেও বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কলকাতার হাসপাতালগুলিতে ইতিপূর্বেই করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চালু করা হল করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসার ওয়ার্ড। কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নির্দেশে এদিন ওয়ার্ড চালুর পরেই বর্ধমান হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স সহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির হয়। হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনও রোগী বা সন্দেহজনক কোনও রোগী ভর্তি হলে প্রাথমিকভাবে কী করণীয় সে বিষয়ে আলোচনা হয় প্রশিক্ষণ শিবিরে।

বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডেপুটি সুপার কুণালকান্তি দে জানান, ইতিমধ্যেই দেশে জনা ৩০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর মিলেছে। সেজন্যই দেশের সব রাজ্যকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক করোনা ভাইরাস নিয়ে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছে। সেই নির্দেশ মেনে বর্ধমান হাসপাতালও সদর্থক ব্যবস্থা নিল। একই বিষয় নিয়ে জেলাশাসক বিজয় ভারতি এদিন জেলার সকল প্রশাসনিক আধিকারিক ও স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সারেন।

- Advertisement -

জেলাশাসক বিজয় ভারতি জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২৭ জন বর্ধমানের বাড়িতে ফিরে এসেছেন। তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মেডিকেল টিম তাঁদের চেক করবে। তিনি জানান, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে কী কী করণীয় সেই সংক্রান্ত লিফলেট তেরি করে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে। ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করতে সেই লিফলেট জেলার প্রতিটি স্কুলেও পৌঁছে দেওয়া হবে। বিশেষ মাস্কের কালো বাজারি কোনওভাবেই হতে দেওয়া হবে না। কেউ মাস্কের কলোবাজারি করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, চিন, জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সম্প্রতি বর্ধমানের বাড়িতে ফিরে এসেছেন এমন ন’জনকে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। ওই সকল ব্যক্তিদের আপাতত বাড়ির বাইরে বের হতে নিষেধ করেছে প্রশাসন। ওই ব্যক্তিদের সকলের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। একইসঙ্গে ৫০ হাজার বিশেষ মাস্ক (এন ৯৫) ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট মজুত করে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।