নদীর জলে প্লাবিত বিস্তীর্ণ এলাকা, জলের তলায় ফসল

262

বিশ্বজিৎ সরকার, হেমতাবাদ: বন্যার জলে প্লাবিত বিস্তীর্ণ অঞ্চল। প্রবল জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে সীমান্তের রাস্তায় নিয়ে যেতেই মৃত্যু হল এক গৃহবধূর। এলাকার কবরস্থান জলের তলায় তাই বাধ্য হয়েই সেই মৃতদেহ কবর দিতে হলো সেখান থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে বিন্দোল গ্রামে। মৃত ওই গৃহবধূর বাড়ি হেমতাবাদ থানার চৈনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাকড়াহাট গ্রামে। এদিন গ্রামে গিয়ে দেখা গেল মৃতার বাড়িতে মিলাদের অনুষ্ঠান চলছে।

মৃতার স্বামী নাজমুল হক বলেন, ‘রাস্তা এবং একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলে আমার স্ত্রীকে এভাবে মরতে হত না।’ স্থানীয়দের বক্তব্য, আচমকা রাতবিরেতে কোনও মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য ৩৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছতে হয়। গ্রামে আজ পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্স ঢোকেনি। অ্যাম্বুলেন্সে করে কোন রোগে আসলে গ্রামের দুই কিলোমিটার আগেই রোগীকে নামিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে ভুটভুটি করে গ্রামে নিয়ে আসতে হয়।

- Advertisement -

এদিন গ্রামে গিয়ে দেখা গেল নদীর জল ঢুকে জলমগ্ন বিঘার পর বিঘা জমি। সমবায় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চার বিঘা জমিতে আমন ধান লাগিয়েছিলেন মাকড় হাট গ্রামের বাসিন্দা। দিন কয়েক আগে নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে সমস্ত চাষের জমি জলের তলায়। আব্দুর রহমানের মত একই হাল মহিষাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা উপেন সিংহ এবং আজিমুদ্দিনের মত শতাধিক চাষির। একদিকে বৃষ্টি অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে আসা বন্যার জল। ধানের দফারফা। হেমতাবাদ ব্লকের চৈনগর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের বহু এলাকার ফসলের জমি কার্যত জলের তলায়।

কুলিক নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে একাধিক গ্রাম। ধানের পাশাপাশি হেমতাবাদ ব্লকের বিভিন্ন মরশুমি সবজিও জলে ভাসছে। হেমতাবাদ ব্লকের অধিকাংশ কৃষিজমিতে সবজির উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু এলাকায় গিয়ে দেখা গেল হু হু করে জল ডুকছে। হেমতাবাদ ব্লকের জেলা পরিষদের সদস্যা পম্পা পাল বলেন,”হেমতাবাদের সীমান্তবর্তী এলাকায় একাধিক গ্রাম জলমগ্ন। প্রাণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ‌ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছেন বিডিও। কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।