অল্প সময়ে ফুলেফেঁপে ওঠা নেতারাই তৃণমূলের মাথাব্যথা

বিশ্বজিৎ সরকার, হেমতাবাদ : হেমতাবাদে বেশ কিছু নেতার কম সময়ে মধ্যে ফুলেফেঁপে ওঠাই তৃণমূলের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, গত লোকসভা নির্বাচনে হেমতাবাদ আসনে তৃণমূল প্রার্থী, বিজেপির থেকে অনেকটা পিছিয়ে ছিলেন। শাসকদলের একাংশের মতে, এই পিছিয়ে পড়ার পিছনে ওইসব ফুলেফেঁপে ওঠা নেতারাই দায়ী। অল্প সময়ে মধ্যে কোটিপতি বনে যাওয়া কিছু নেতা এবং তাদের আচার-আচরণ, মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক না থাকায় শাসকদলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। যদিও তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, দলে অস্বচ্ছ লোকেদের ঠাঁই নেই। তৃণমূল মানুষের জন্য কাজ করে। মাস কয়েক আগে পঞ্চায়েত সমিতির এক সদস্য ও পঞ্চায়েত প্রধানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যাঁরা দল ভাঙিয়ে অনিয়ম কাজ করবেন, তাঁদের রেয়াত করা হবে না। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে আমাদের পক্ষেই মানুষ ভোট দেবেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, হেমতাবাদ বিধানসভা কেন্দ্র এলাকার বাসিন্দাদের জীবনযাপন পুরোপুরি কৃষিনির্ভর। এখানে কোনও শিল্প কিংবা কলকারখানা নেই। ন্যূনতম রোজগারেই এখানে সিংহভাগ মানুষের জীবনজীবিকা চলে। কোনও বড় বাজার বা শহরের পরিবেশও সেই অর্থে গড়ে ওঠেনি। আর্থসামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া এলাকা হিসাবে পরিচিত হেমতাবাদ। এখানকার এক প্রান্তের বাসিন্দাদের সঙ্গে অন্য প্রান্তের বাসিন্দাদের ভালো পরিচিতি রয়েছে। তাই এখানে গত কয়েক বছরে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ব্লকস্তরের কিছু নেতার ফুলেফেঁপে ওঠার বিষয়টি মানুষ ভালো চোখে দেখেনি। এই নেতাদের অনেকেই শাসকদলের নাম ভাঙিয়ে নিজেদের আখের গুছিয়েছেন। ওই নেতারাই এখন যদি দলের হয়ে নির্বাচনি প্রচারে নামেন, সেক্ষেত্রে মানুষ ফের মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তৃণমূল নেতাদের একাংশ। ফলে ফুলেফেঁপে ওঠা নেতাদের শেষ পর্যন্ত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে আদৌ দল নামতে দেবে কি না তা নিয়ে এখন জল্পনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। এই ব্লকের বেশ কিছু নেতার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পঞ্চায়েতের কাজে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ফলে সরকারি উন্নয়নের কাজও অনেক জায়গায় সঠিকভাবে হয়নি। এমনটাই অভিযোগ করছেন বাসিন্দারা।

- Advertisement -

হেমতাবাদের বাসিন্দাদের বক্তব্য, এখানে ভোট আসে, ভোট যায়। এতে কিছু নেতার স্বার্থসিদ্ধি হয়। খুব অল্পসময়ে মধ্যেই তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং আর্থসামাজিক অবস্থা আমূল বদলে যায়। কিন্তু মানুষের উন্নয়ন কিছুই হয়নি। এই বঞ্চনাই কিন্তু একুশের ভোটে অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে। এবারের ভোটে শাসকদল যেমন প্রচার চালানোর চেষ্টা করবে, বিরোধীরাও এসব দুর্নীতি ও শাসকদলের নেতাদের ফুলেফেঁপে ওঠা, সাধারণ মানুষের বঞ্চনার বিষয়টি তুলে ধরে নির্বাচনি প্রচার চালাবে। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, প্রচারের দৌড়ে একে অপরকে টেক্কা দিতে ইতিমধ্যে ময়দানে নেমে পড়েছে শাসক-বিরোধী শিবির।

বিজেপির জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ি বলছেন, চাকরি দেওয়ার নাম করে হেমতাবাদ ব্লকের একাধিক তৃণমূল নেতা কোটিপতি হয়েছেন। আমরা তাঁদের নামের তালিকা তৈরি করেছি। আয়কর দপ্তরেও একটি তালিকা পাঠিয়েছি। ওই ব্লকে এমন কিছু তৃণমূল নেতা রয়েছেন, যাঁদের বিলাসবহুল গাড়ি ও একাধিক বাড়ি রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চাইছি আমরা। কংগ্রেসের বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, শুধু হেমতাবাদ ব্লক নয়। উত্তর দিনাজপুর জেলার নটি ব্লকেই তৃণমূল নেতারা অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে কোটিপতি হয়েছেন। নেতারা হেমতাবাদ এলাকায় একাধিক রাস্তা নির্মাণের নাম করে কাটমানি খেয়েছেন। কিন্তু রাস্তা তৈরি হয়নি। সিপিএমের জেলা সম্পাদক অপূর্ব পাল বলেন, হেমতাবাদ ব্লকজুড়েই অনুন্নয়ন, পানীয় জল, বেহাল রাস্তাঘাট নিয়ে আমাদের কর্মীরা আন্দোলন করছেন। মেধাবী পড়ুয়ারা চাকরির উপযুক্ত হলেও সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রি হয়েছে। এসব নিয়ে আমরা খুব তাড়াতাড়ি আন্দোলনে নামব।