টানা তিন বছর জেলার সেরা পঞ্চায়েত সমিতির বিরুদ্ধে ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতির অভিযোগ

308

কালিয়াগঞ্জ: টানা তিন বছর জেলার সেরা পঞ্চায়েত সমিতির বিরুদ্ধে ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলো পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দল নেতা সহ অনান্য কর্মাধ্যক্ষ। শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় বিডিও অফিস প্রাঙ্গনে বিজেপির পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা সহ অনান্য কর্মাধ্যক্ষ এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

রাজ্য যুব মোর্চার নেতা গৌরাঙ্গ দাস বলেন, দিনের পর দিন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিরোধী সদস্যদের না জানিয়ে, অন্ধকারে রেখে সব কাজ করে চলেছেন। ১০০ দিনের কাজ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন সভাপতি। কারা কাজ পেল, কত টাকার কাজ, এই সব বিষয়ে আমাদের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা প্রত্যেকে অন্ধকারে রয়েছেন। তাই আমরা অবিলম্বে পঞ্চায়েত সমিতির অপসারণ এবং শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

- Advertisement -

কালিয়াগঞ্জের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীপা সরকার বলেন, পঞ্চায়েত সমিতির প্রত্যেকে সদস্য বিষয়টি জানেন। এই বিষয়টি জেলা থেকে পরিচালিত। আমাদের কোনও হাত নেই। মাস দুয়েক আগে জেলা থেকে এলাকার এক নার্সারির কাজ শুরু করার অনুমোদন মেলে। যদিও এই কাজের সম্পূর্ণ তথ্য বা নথিপত্র আমাদের কাছে আছে। এই কাজ শেষ হতে এখনও ২২ মাস সময় আছে। প্রত্যেক শ্রমিকেরা রাজ্য সরকারের নিয়মানুসারে টাকা পাবে।

দীপা সরকারের অভিযোগ, পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজ দিতে যারা দাবি জানিয়েছিল, এখন তারাই আন্দোলন করে পরিযায়ীদের রোজগারের পথে বাঁধা সৃষ্টি করছে। শুধু তাই নয়, গত তিনি বছর ধরে আমাদের পঞ্চায়েত সমিতি ১০০ দিনের কাজে শিরোপা পাওয়ায় তারা কাজে বাঁধা সৃষ্টি করে পঞ্চায়েত সমিতিকে কালিমালিপ্ত করতে চাইছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, ভুলে গেলে চলবেনা এই পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যরাও। তাই মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মানুষকে ভুল বোঝানো যাবে না।

কালিয়াগঞ্জ ব্লকের জয়েন্ট বিডিও পরিমল দাস বলেন, ‘এটা মূলত পাইলট প্রজেক্ট। দুই বছরের কাজ। জেলার পক্ষ থেকে এই কাজের অনুমোদন রয়েছে। এই প্রজেক্টের টেন্ডার জেলা থেকেই হয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতিতে যে এর কাজ শুরু হয়েছে তার অনুমোদন জেলা থেকে রয়েছে।‘

বিডিও আরও বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত দুই হাজার ম্যান্ডেজ(১ম্যান্ডেজ=১দিনের,১জনের কাজ) হয়েছে। এই কাজের পেমেন্ট বাদ দিয়ে আর কোনও পেমেন্ট কাউকেই দেওয়া হয়নি। সবে মাত্র এই আর্থিক বছরে এই কাজ শুরু হয়েছে। এখানে দুই লক্ষ সুপারি এবং দুই লক্ষ বনজ প্রজাতির গাছের চারা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই চারাগাছ গুলির দ্বারা বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে বার্ষিক পরিকল্পিত বিভিন্ন সামাজিক বন সৃজন প্রকল্প এবং উদ্যান পালন প্রকল্প গুলি রুপায়িত হবে। আগামীতে বনজ উদ্ভিদের মধ্যে গোল মরিচ উৎপাদন করে পঞ্চায়েত সমিতির নিজশ্ব তহবিল সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন পরিমল বাবু।