একশো দিনের কাজের প্রকল্পের সাড়ে ৯ লক্ষ টাকা তছরুপের অভিযোগ

253

সামসী: অভিযোগ যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। রতুয়া-২ ব্লকের শাসকদল পরিচালিত মহারাজপুর পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে একশো দিনের কাজের প্রকল্পের ফের সাড়ে নয় লক্ষ টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠল। এ নিয়ে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

এর আগে মহারাজপুর প্রধান, সদস্য ও পঞ্চায়েত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে মিলিজুলিভাবে এলাহাবাদ ঈদগাহের পেপার টাইলস প্রকল্পের সাড়ে নয় লক্ষ টাকা তছরুপের অভিযোগ ওঠে। কাজ না করেই প্রকল্পের সমস্ত টাকা উধাও হয়ে যায়। এই মর্মে এলাহাবাদ গ্রামের বাসিন্দারা চলতি মাসের ২০ তারিখে লিখিতভাবে, বিডিও, ডিএম, এসপি এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগের প্রতিকপি পাঠানোও হয়েছিল। অভিযোগ পেয়ে রাতুয়া-২ বিডিও সোমনাথ মান্না ২৪ জুলাই তদন্তের নির্দেশ দেন জয়েন্ট বিডিও সৌরভ দেবকে। পরদিন কাজের তদন্ত হয়। তদন্ত রিপোর্টের তৈরির কাজ জোরকদমে চলছে বলে ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

- Advertisement -

এদিকে, মহারাজপুর পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার অর্থাৎ ২৮ জুলাই ফের দুটি একশো দিনের কাজের প্রকল্পের অর্থ তছরুপের অভিযোগ করেছেন ওই পঞ্চায়েত এলাকারই কয়েকজন বাসিন্দা।

খুরশেদ আলি, আজিজুর রহমান, লুৎফুর রহমান, আরশাদ, বাদল, আলমরা অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেছেন, মহারাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঙামাটিয়া শিশু শিক্ষাকেন্দ্র ও রাজাপুর মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র এই দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একশো দিনের কাজের প্রকল্পে পেপার ব্লকের কাজ ছিল। মোট বরাদ্দ ছিল প্রায় ৯ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা। কিন্তু কোনওপ্রকার কাজ না করেই প্রকল্প দুটির টাকা লোপাট হয়ে গিয়েছে। অর্থ তছরুপে জড়িত পঞ্চায়েত প্রধান ও পঞ্চায়েত দপ্তরের আধিকারিকগণ।

এই মর্মে অভিযোগ জানানো হয়েছে জেলা শাসক, জেলা পুলিশ সুপার, এমজিএনআরইজিএস দপ্তরেও। তাছাড়াও অভিযোগের প্রতিকপি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিবকেও পাঠানো হয়েছে।যাতে সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

অভিযোগকারীরা চরম উদ্বেগের সঙ্গে আরও জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত দখলের পর এখন পর্যন্ত মহারাজপুর পঞ্চায়েতের একাধিক প্রকল্পের সবমিলিয়ে কোটি টাকারও বেশি অর্থ তছরুপ করেছে শাসকদল পরিচালিত এই পঞ্চায়েত। তাই তাঁদের দাবি, জেলাশাসকের নির্দেশে নিরপেক্ষ কমিটি গড়ে কাজের ডকুমেন্টারি এভিডেন্স পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। তাহলেই আসল সত্যতা বেরিয়ে আসবে।

মালতীপুরের কংগ্রেস বিধায়ক আলবেরুনি জুলকারনাইন বলেন, ‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে চাইছেন পঞ্চায়েতগুলিতে স্বচ্ছভাবে কাজ হোক। সেখানে শাসকদল পরিচালিত পঞ্চায়েতে কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা লোপাট করছে তা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা বিষয়টা নিয়ে ইতিমধ্যেই ডিএম সাহেবের সঙ্গে কথা বলেছি। যাতে নিরপেক্ষ তদন্ত হয়।’ তবে রতুয়া-২ এর বিডিওর ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, ‘বিডিও তদন্তে গড়িমসি করছেন। সেই বিষয়টি ডিএম সাহেবকে জানানো হয়েছে।’

তবে এ ব্যাপারে রতুয়া-২ এর বিডিও সোমনাথ মান্নাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন না ধরায় কানও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
চাঁচলের মহকুমা শাসক সব্যসাচী রায় বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এই মর্মে বিডিওকে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

মহারাজপুরের প্রধান আফসানা খাতুনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা জানার জন্য বহুবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। প্রধানকেও মেসেজ করা হলেও কোনও উত্তর মেলেনি।

শাসকদলের নব নিযুক্ত উত্তর মালদার কো অর্ডিনেটর ডঃ মানব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সরকারি নির্দেশ মেনেই কাজ করতে হবে। কেউ নিয়মবহির্ভূত কাজ করলে দল তার দায়িত্ব নেবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মোতাবেক স্বচ্ছভাবেই সরকারি কাজ করতে হবে। যাঁরা অন্যায় করবেন তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের কেউই নয় বলে সাফ জানিয়ে দেন মানববাবু।