দুর্নীতিমুক্ত তৃণমূলই চ্যালেঞ্জ জেলা সভাপতি গৌতমের

বালুরঘাট : দলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়া দুর্নীতি দূর করাই চ্যালেঞ্জ নতুন তৃণমূল জেলা সভাপতি গৌতম দাসের। ইতিমধ্যে জেলা জুড়ে বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। বেশ কয়েক মাস ধরে এই অভিযোগের ভিত্তিতেই হিলি থেকে হরিরামপুর পর্যন্ত বেশ কয়েকজন নেতাকে কার্যত রিজার্ভ বেঞ্চে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবারে গৌতমবাবু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ফের একবার দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরাই এখন চ্যালেঞ্জ তার সামনে। তবে এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত নতুন জেলা সভাপতি গৌতম দাস। তিনি বলেন, দুর্নীতিকে কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তিনি দুর্নীতিবাজ, এমন ধারণা ঠিক নয়। সঠিক তথ্য প্রমাণ এবং তদন্তের মাধ্যমে যদি প্রমাণিত হন কেউ ,তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠনেও উদ্যোগী হলেন তৃণমূল জেলা সভাপতি গৌতম দাস। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন জেলা কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শেষ করবার পক্ষপাতী তিনি। রবিবার এই নিয়ে একটি বৈঠক করে জেলা কমিটির নামগুলো ঠিক করে সেগুলি অনুমোদনের জন্য রাজ্য নেতাদের কাছে পাঠাবেন বলে জানান গৌতমবাবু। জেলার সেই মিটিংয়ে নতুন ঘোষণা করা কমিটির চেয়ারম্যান শংকর চক্রবর্তী, দুই কোঅর্ডিনেটর সুভাষ চাকি ও ললিতা টিগ্গা, মন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদা সহ অন্যান্যদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন। তবে এদিনের সভায় সদ্য প্রাক্তন জেলা সভাপতি অর্পিতা ঘোষ উপস্থিত ছিলেন না। তবে অর্পিতা ঘোষের সঙ্গে আলোচনা করে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের যোগ্য নেতাদের নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন জেলা সভাপতি গৌতম দাস। তবে শুধুমাত্র দুর্নীতিই নয়, গৌতমবাবুর সামনে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মোকাবিলাও বড় চ্যালেঞ্জ। নব্য তৃণমূল নেতাদের চাপে পুরোনোরা তেমন সম্মান পাচ্ছেন না দলে, এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। এবারে একেবারে নতুন এসেই দলের জেলা সভাপতির দায়িত্ব নেওয়া গৌতমবাবু কীভাবে এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ন্ত্রণ করেন বা পুরোনোদের সম্মান দেন এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

- Advertisement -

এদিকে তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্রকে দলে ফেরানো হবে কি না বা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে কি না, সেবিষয়ে গৌতমবাবু বলেন, বিপ্লবদার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকতেই পারে। তবে রাজনৈতিকভাবে সম্পর্ক নেই। উনি বিজেপিতে রয়েছেন। তাঁকে দলে নিয়ে আসার ব্যাপারগুলির আমার একার ওপর নির্ভর করে না। তবে এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে গৌতমবাবু দলের পুরোনো নেতা-কর্মীদের দলে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। গৌতমবাবু বলেন, বিপ্লব মিত্র এই দলের একসময় জেলা সভাপতি ও সহসভাপতিও ছিলেন। তাই এই বিষয়টি নিয়ে আমার কোনও মন্তব্য এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না। একমাত্র রাজ্যের কমিটিই বলতে পারবে। তবে বিপ্লব মিত্র যদি আমার কাছে দলে ফেরার ইচ্ছে প্রকাশ করেন, তবে আমি অবশ্যই রাজ্য কমিটির সঙ্গে আলোচনা করব, তাকে দলে নেব কি নেব না। সুতরাং আমার কাছে এমন কোনও প্রস্তাব আসেনি। তিনি আরও বলেন, আমরা পদাধিকারীরা প্রথমে বসে একটা খসড়া জেলা কমিটি তৈরি করব। তারপর সেগুলি অনুমোদনের জন্য রাজ্যে পাঠিয়ে দেব। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন জেলা কমিটির অনুমোদন পাওয়া যাবে। প্রয়োজনমাফিক ব্লক ও অঞ্চল কমিটিতেও বদল আনা হতে পারে।