কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া পরিচালনা নিয়ে দুর্নীতি

167

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়িতে বিভিন্ন কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া পরিচালনা নিয়ে বড়সড়ো দুর্নীতির আভাস মিলেছে। সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়নি, টেন্ডার করা হয়নি। সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিভিন্ন কলেজ কর্তৃপক্ষ নিজেদের পছন্দের সংস্থাকে ভর্তি প্রক্রিয়া পরিচালনার দাযিত্ব দিয়েছে। বেশ কয়েকটি কলেজের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও আবার বছরের পর বছর ধরে একই সংস্থাকে ভর্তি প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছে। ওই সংস্থাগুলিই অনলাইন ভর্তির যাবতীয় বিষয় তদারকি করছে। আবার কয়েকটি কলেজে সুনির্দিষ্ট একটি সংস্থাই ভর্তির বিষয়টি দেখভাল করছে। ইতিমধ্যেই বেশি নম্বর পাওয়া আবেদনকারীকে বাদ দিয়ে তুলনায় কম নম্বর পাওয়া আবেদনকারীর নাম মেধাতালিকায় আগে রাখা, পাশ কোর্সে ভর্তি না হয়ে অনার্সের তালিকায় ঠাঁই পাওয়া সহ শিলিগুড়ি কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে টেন্ডার ছাড়াই দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি তৈরি করে একাধিক ছাত্র সংগঠন তদন্ত দাবি করেছে।

শেষ কয়েক বছর থেকে কলেজে কলেজে অনলাইন ভর্তি শুরু হয়েছে। ফলে আবেদন যাচাই, বাতিল, মেধাতালিকা তৈরি সহ ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ কলেজগুলিকে অনলাইনেই করতে হচ্ছে। পরিকাঠামোগত সমস্যার জেরে নিজেদের পক্ষে সেই কাজ সম্ভব নয় বলেই কলেজগুলি বাইরের সংস্থাকে বরাত দিচ্ছে। শিক্ষা দপ্তরের সচিব পদমর্যাদার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সংশোধিত ওয়েস্টবেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস এক্সপেন্ডিচার কন্ট্রোল অ্যাক্ট-২০১৮তে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কীভাবে টাকা খরচ করবে সেই নির্দেশিকা দেওয়া আছে। সেই আইন অনুসারে কোনও সংস্থাকে কাজের বরাত দিতে হলে অবশ্যই টেন্ডার করতে হবে। সেই টেন্ডারের জন্য বহুল প্রচারিত সংবাদমাধ্যমগুলিতে বিজ্ঞাপন দিয়ে জানাতে হবে। ওই নিয়ম ভেঙে শিলিগুড়ি কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি সংস্থাকে বরাত দিয়েছে বলে অভিযোগ। শিলিগুড়ি কলেজের ভর্তি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক তথা টিচার্স কাউন্সিলের সম্পাদক অনিকেত ছেত্রী বলেন, আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেই একটি সংস্থাকে কাজের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিচালন কমিটিতেও আলোচনা হয়েছে।

- Advertisement -

মুন্সী প্রেমচাঁদ কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপ দাস অবশ্য টেন্ডার না করার বিষয়টি স্বীকার করে দিয়েছেন। কোভিড পরিস্থিতির জন্যই টেন্ডার করা যায়নি বলে তাঁর দাবি।  তিনি বলেন, গত বছর যে সংস্থাটি কাজ করেছে এবার তারাই কাজ করছে। তাহলে কীসের ভিত্তিতে তাদের কাজের বরাত দেওয়া হল, সেই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য দিলীপবাবু দিতে পারেননি। শিলিগুড়ি মহিলা কলেজেও নিয়ম ভেঙে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কলেজের অধ্যক্ষ সুব্রত দেবনাথ বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি প্রথমে বলেন, টেন্ডার করেই সব করা হয়েছে। কবে টেন্ডার হয়েছে, কটা সংস্থা টেন্ডারে অংশ নিয়েছিল এসব প্রশ্ন করার পর তিনি বলেন, আমরা অনলাইনে একটা বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম। তার ভিত্তিতেই একটি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। টেন্ডার হয়নি। কোন ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল তা তিনি বলতে পারেননি। গত বছর যে সংস্থা দায়িত্বে ছিল সেই সংস্থা এবছরও কাজ করছে বলেই সূর্য সেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রণবকুমার মিশ্র জানিয়েছেন। সংস্থাটির সঙ্গে তাঁদের তিন বছরের চুক্তি রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মোটা টাকার বিনিময়ে কলেজে ভর্তি বা অনার্স পাইয়ে দেওয়ার ভূরিভূরি অভিযোগ রয়েছে। এসএফআইয়ের দার্জিলিং জেলা সভাপতি সাগর শর্মা বলেন, বড় মাপের দুর্নীতি হয়েছে। নিয়ম ভেঙে বরাত দেওয়ার ঘটনায় অনেক বড় বড় মাথা যুক্ত রয়েছে। এবিভিপির উত্তরবঙ্গ প্রান্ত কার্যকরী কমিটির সদস্য গণেশ কামতি বলেন, তৃণমূল ছাত্র পরিষদই কলেজগুলিতে ভর্তি দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাদের পছন্দের সংস্থাকেই দায়িত্বে বসানো হয়েছে। দার্জিলিং জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কার্যনির্বাহী সভাপতি মিঠুন বৈশ্য বলেন, সরকারি গাইডলাইনের বাইরে গিয়ে কাজ করা কারও উচিত নয়। তবে ভর্তি নিয়ে কোথাও কোনও দুর্নীতি নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।