আমফানের ক্ষতিপূরণে দুর্নীতি, কান ধরে উঠবস তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যর

508

ক্যানিং: আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরিতে স্বজনপোষণের অভিযোগ ওঠে এক পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। সে কথা জানাজানি হতেই মঙ্গলবার গ্রামবাসীদের চাপের মুখে নিজের দোষ স্বীকার করে পুলিশ, বিডিও ও গ্রামবাসীদের সামনে কান ধরে উঠবস করলেন তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পঞ্চায়েত কমিটির ওই সদস্য। সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের ঘটনা।

অভিযোগ, নন্দকুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য স্বপন ঘাঁটি সঠিক ভাবে আমপানে ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা তৈরি করেন নি। ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় বেঁছে বেঁছে তাঁর পরিচিত বা কাছের লোকজনের নাম রেখেছেন। যাঁদের মধ্যে অনেকেই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত নয়। ঠিক তেমনি, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তের নাম বাদ পড়েছে। আর এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামবাসীরা ওই তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম নথিভুক্ত করতে তাঁকে ঘেরাও করে চাপ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে তাঁর ভুল স্বীকার করতে চাপ সৃষ্টি করে। সেই চাপের মুখে পড়ে কান ধরে উঠবস করতে বাধ্য হন মথুরাপুরের ওই তৃণমূল গ্রাম সদস্য।

- Advertisement -

খবর পেয়ে, ঘটনাস্থলে হাজির হন মথুরাপুর ২ নম্বর ব্লকের বিডিও এবং পুলিশ। এরপরে আরও বেকায়দায় পড়ে যান স্বপন বাবু। গ্রামবাসী-পুলিশ ও বিডিও‘র সামনেই কান ধরে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে নেন তিনি। তারপরেই তদন্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ফেরতের আশ্বাস দেন বিডিও। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই আরও বেকায়দায় পড়ে যায় তৃণমূল কংগ্রেস। পরিস্থিতি সামাল দিতে দলীয়ভাবে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান স্থানীয় তৃণমূল ব্লক সভাপতি।

তৃণমূলের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি তথা দলের রাজ্যসভার সদস্য শুভাশিস চক্রবর্তী এবং রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন,তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে স্বপন ঘাঁটির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু পরে শুভাশিস বাবু জানান, প্রাথমিকভাবে ওই দলীয় নেতার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ পাওয়া গেছে তার ভিত্তিতে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।