ঘড়ি কেনায় লক্ষ লক্ষ টাকার দুর্নীতি কোচবিহারে

302

চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : কোচবিহার পুরসভায় এবার ঘড়ি কেনা নিয়ে বড়সড়ো দুর্নীতির হদিস মিলল। শহরের হরিশ পাল চৌপথির ঘড়িঘরের জন্য চারটি ঘড়ি কেনাবেচায় লক্ষ লক্ষ টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। নামী কোম্পানির ঘড়ি কিনে তা অচল বলে নামমাত্র টাকায় একটি দোকানে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আবার সেই দোকান থেকেই তার প্রায় তিনগুণ দামে অনামি কোম্পানির ঘড়ি কেনা হয়েছে। সেই ঘড়িগুলিও এখন অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পুরসভার বর্তমান প্রশাসকমণ্ডলী এমন চারটি ঘড়ি কেনাবেচার নথিপত্র খতিয়ে দেখে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করছে। পুরসভার যে আধিকারিক এই কেনাবেচার বিষয়টি দেখাশোনা করেছিলেন তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

২০১২ সালের ২৭ নভেম্বর কোচবিহার পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান বীরেন কুণ্ডুর আমলে কোচবিহার শহরের হরিশ পাল চৌপথি এলাকায় ঘড়িঘরের উদ্বোধন হয়েছিল। এই ঘড়িঘরের চারদিকে চারটি ঘড়ি বসানো হয়েছিল। এইচএমটি কোম্পানির চারটি ঘড়ি দেড় লক্ষ টাকা দরে মোট ছয় লক্ষ টাকায় কেনা হয়েছিল। মাঝে বেশ কয়েকবার সেই ঘড়ি বিকল হয়েছিল। তা সারিয়ে ফের চালু করা হয়। ২০১৪ সালে বীরেন কুণ্ডু মারা যান।

- Advertisement -

২০১৮ সালে ভূষণ সিং চেয়ারম্যান থাকাকালীন ঘড়িগুলি বন্ধ হয়ে পড়েছিল। তারপর ঘড়িগুলি আর সারানো হয়নি। তার বদলে এইচএমটি-র বিকল চারটি ঘড়ি মাত্র ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয় শিলিগুড়ির একটি ঘড়ির দোকানে। তার বিনিময়ে ৪ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা দরে সেই দোকান থেকে ১৭ লক্ষ টাকায় চারটি ঘড়ি কিনে তা লাগানো হয়। ৮০ হাজার টাকা বাদ দিয়ে চারটি ঘড়ির দাম ঠিক হয়েছিল ১৬ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। আশ্চর্যের বিষয় এবার এইচএমটি-র মতো নামী কোম্পানি নয়, আকাশছোঁয়া দাম দিয়ে একটি অনামি কোম্পানির চারটি ঘড়ি কেনার বরাত দেয় কোচবিহার পুরসভা। কিছুদিন চলার পর দ্বিতীয় দফায় কেনা চারটি ঘড়িও কিছুদিনের মধ্যেই খারাপ হয়ে গিয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে সেই ঘড়িগুলি এখন অচল পড়ে রয়েছে। শিলিগুড়ির যে দোকান থেকে ঘড়ি কেনা হয়েছিল তারা ঘড়ি ঠিক করতে আসেনি।

পুরসভার বর্তমান প্রশাসকমণ্ডলী দায়িত্ব নেওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে কানাঘুষো শুরু হয়েছে। পুরসভা সূত্রেই জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডের যে দোকান থেকে ১৭ লক্ষ টাকায় চারটি ঘড়ি কেনা হয়েছিল সেই এজেন্সি ঘড়ি সারাতেও আসেনি। কোন বোর্ড মিটিংয়ে এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। তবে, ঘড়িগুলি অচল হয়ে পড়ায় ওই এজেন্সিকে ঘড়ির পুরো দাম মেটানো হয়নি। দুটি ঘড়ির দাম আর দেয়নি পুরসভা।

কোচবিহার পুরসভার প্রশাসক তথা সদর মহকুমা শাসক রাকিবুর রহমান বুধবার বলেন, ঘড়িগুলো ফের চালু করার বিষয়টি দেখা হচ্ছে। তার সঙ্গে ঘড়ি কেনা ও বিক্রির বিষয়টি কীভাবে হয়েছে তাও দেখা হচ্ছে। কোচবিহার পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান ভূষণ সিং বলেন, ঘড়িগুলি কত টাকায় কেনা হয়েছিল তা এখন ঠিক মনে নেই। তবে ঘড়িগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যে এজেন্সিকে দিয়ে কেনা হয়েছিল তাদের জানানো হয়। তারা বলে হায়দরাবাদ থেকে কর্মী এসে ঠিক করবে। বারবার বলা হলেও ঘড়ি ঠিক করতে কেউ আসেনি।  তাই তাদের অর্ধেক পেমেন্ট আটকে দেওয়া হয়েছিল।

কোচবিহার পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য দিলীপ সাহা বলেন, ঘড়ি বিক্রি ও কেনার বিষয়টি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। এত দামি ঘড়ি কেনা হলেও তা অল্প দিনেই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কোনও নামী কোম্পানির ঘড়ি কেনা হয়নি। সমস্ত বিষয়টি নিয়ে প্রশাসকমণ্ডলীর বৈঠকে আলোচনা করা হবে। ঘড়িগুলি ফের চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।