কৃষকবন্ধু প্রকল্পে কয়েক লক্ষ টাকার দুর্নীতি ইসলামপুরে

অরুণ ঝা, ইসলামপুর : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে কৃষক দরদকে হেলায় দূরে সরিয়ে ইসলামপুর ব্লকে কৃষকবন্ধু প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ টাকার দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিভাগীয় তদন্তে ৪০ লক্ষ টাকার অনিয়মের খবর মিলেছে।

সূত্রের খবর, প্রকল্পের টাকা কয়েকশো জাল অ্যাকাউন্টে ঢোকানো হয়েছে। প্রকল্পের কাজে যুক্ত একটি এজেন্সির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি সহ ব্লক কৃষি দপ্তরের একাংশের যোগসাজশে এই অনিয়ম ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের একাংশের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খবরটি ধামাচাপা দিতে ওই নেতাদের একাংশ সক্রিয় হয়েছেন। ইসলামপুর মহকুমা প্রশাসন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত করে উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসনকে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে ইসলামপুর মহকুমা কৃষি আধিকারিক নিশীথ মণ্ডল কোনও মন্তব্য করেননি। মহকুমা শাসক অলংকৃতা পান্ডে বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে তদন্ত হয়েছে। তারাই এ বিষয়ে চড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

- Advertisement -

কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর, ২০২০-২০২১ অর্থবর্ষে কৃষকবন্ধু প্রকল্পে খরিফ মরশুমের জন্য টাকা বরাদ্দ করা হয়। এই প্রকল্পে উপভোক্তাদের ন্যূনতম ১০০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ২৫০০ টাকা করে পাওয়ার কথা। খরিফ ও রবি মরশুম মিলিয়ে বছরে একজন উপভোক্তা কমপক্ষে ২০০০ বা সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা পেতে পারেন। প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা তৈরির দাযিত্ব একটি এজেন্সিকে দেওয়া হয়েছিল। মিহিরকান্তি বিশ্বাস ইসলামপুরে এজেন্সির দায়িত্বে ছিলেন। প্রকল্পের জন্য মোট ২৫ হাজার ৭০০টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ২১ হাজার ৫০০টি আবেদনকে বৈধ ধরে নিয়ে কৃষি দপ্তর প্রকল্পের প্রক্রিয়াকরণ শুরু করে। ইতিমধ্যে ১৯ হাজার ৫০০টি আবেদনের ভিত্তিতে প্রায় ৩ কোটি টাকা উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই আবেদনগুলির মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৬০০টির বেশি অ্যাকাউন্ট নিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি প্রশাসনিক তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলির মধ্যে ১৫০টিরও বেশি পুরোপুরি জাল। বাকি অ্যাকাউন্টগুলিতে প্রকল্পের টাকা দুবার করে দেওয়া হয়েছে।

এই দুর্নীতিতে সাংবাদিকদের একাংশেরও নাম জড়িয়েছে। এই চক্রটির পিছনে শাসকদলের নেতাদের একাংশের মদত রয়েছে বলেও অভিযোগ। আগেও কৃষি দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে এ ধরনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এবারের অভিযোগ নিয়ে রীতিমতো প্রশাসনিক তদন্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। সূত্রের খবর, এজেন্সির দাযিত্বে থাকা মিহিরকান্তি বিশ্বাস নিজের ছেলে ও স্ত্রীর নামেও প্রকল্পের টাকা তোলার আবেদন জমা করেছেন। বিষয়টি স্বীকার করে মিহিরবাবু বলেন, আমার অধীনে কাজ করা কয়েকজন আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। তৃণমূলের ইসলামপুরের ব্লক সভাপতি জাকির হুসেন বলেন, ঘটনাটি আমিও শুনেছি। প্রশাসন তদন্ত করছে। দলের কেউ এতে যুক্ত থাকলে আমরা কড়া ব্যবস্থা নেব।