তেল শুষে সমুদ্রকে বাঁচাবে তুলো, আবিষ্কার মালদার বিজ্ঞানীর

529

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মালদা : সমুদ্রে তৈলবাহী জাহাজ ডুবে অনেক সময়ে ভযংকর বিপদ ডেকে আনে। সমুদ্রের জলে তেল মিশে গিয়ে বাস্তুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি তো করেই, বহু সামুদ্রিক প্রাণীরও বিলুপ্তি ঘটে। তেল ছড়িয়ে পড়ার ফলে উপকূল ও সমুদ্রে তৈরি হওয়া দূষণ নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্বের তাবড় তাবড় পরিবেশবিদ ও গবেষকরা, এ থেকে বাঁচার পথ খুঁজতে চেষ্টার কসুর করেননি। তবে শুধু জাহাজডুবি নয়, বিভিন্ন কলকারখানা থেকেও ক্ষতিকারক তেল বা তেলজাতীয় তরল জলস্রোতের সঙ্গে মিশে পরিবেশ দূষণ করে। এই সমস্যার সমাধানে দিশা দেখাল মুম্বইয়ে ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টার (বার্ক)। সাধারণ তুলোকে পরিবর্তিত করে এক বিশেষ তুলো তৈরি সম্ভব হয়েছে বার্কে। এই আবিষ্কারের রূপকার সিনিয়র সায়েন্টিস্ট  ডঃ শুভেন্দু রায়চৌধুরী। একাজে যুক্ত আরেক বাঙালি গবেষক মালদার সানিপার্ক শীমূলতলার ছেলে অতনু ঝা।

ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারে তৈরি এই তুলো ঠিক কি কাজে লাগবে? কেনই বা এই আবিষ্কার এত গুরুত্বপূর্ণ? আসলে সাধারণ তুলো তেল ও জল দুইই শোষণ করে। কিন্তু পরিবর্তিত বিশেষ এই তুলো শুধু জলে মিশে থাকা তেল শোষণ করতে সক্ষম। তবে শুধু তেলই নয়, তেলজাতীয় তরল যেমন, বেঞ্জিন, হেক্সিন, ক্লোরোফর্ম ইত্যাদিও শুষে নিতে পারে এই তুলো।

- Advertisement -

এক কেজি এই তুলো একবারে প্রায় ২৫ কেজি পর্যন্ত তেল শোষণ করতে পারে। ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারে তৈরি এই তুলো বহুবার পুনর্ব্যবহারও করা যাবে। এই তুলো তৈরির পদ্ধতি ২০১৮ সালে পেটেন্টের জন্য আবেদন করা হয়। ২০২০ সালে তা মঞ্জুর করা হয়েছে। বাঙালি বিজ্ঞানীদের হতে তৈরি এই তুলো জল পরিশোধনের ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য হাতিয়ার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।