জঙ্গি কার্যকলাপ ছড়াতে জাল নোটের কারবার, রিপোর্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের

277

পূর্ণেন্দূ সরকার, জলপাইগুড়ি : দেশে জঙ্গি কার্যকলাপ ছড়াতে জাল নোটের কারবারে হাত পাকাচ্ছে সন্ত্রাসবাদীরা। রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জাল নোটের কারবারে জঙ্গিরা জড়িত। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলা রয়েছে। তবে এই জাল নোট কারবারে দেশের মধ্যে প্রথম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য গুজরাট। দ্বিতীয় বাংলা। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষান রেড্ডির জাল নোট নিয়ে লোকসভায় পেশ করা এক রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। এই পরিসংখ্যান নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৬-২০১৯ এই চার বছরে পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলি থেকে ৯ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার ২ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে। এই চার বছরেই এই রাজ্যে ৫০০ টাকার ৪৬ লক্ষ টাকা এবং ২০০ টাকার ১ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকার জাল নোট উদ্ধার হয়েছে। অন্যদিকে, এই ৪ বছরেই গুজরাটে ২ হাজার টাকার ১১ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা, ৫০০ টাকার ৭৪ লক্ষ টাকা এবং ২০০ টাকার ৭৬ লক্ষ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা গিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, এই রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী  উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, মালদা,  উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার জেলার সীমান্তেই সবচেয়ে বেশি জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারের চুক্তির জন্যই এই জাল নোট কারবারিদের ধরা সম্ভব হচ্ছে।

- Advertisement -

জাল নোটের কারবার দেশের সীমান্তবর্তী রাজ্যে ক্রমশ বেড়েই চলেছে। ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে যেখানে ২ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার হয় ১০ হাজার ১৪৭টি, সেখানে ২০১৯ সালে জাল নোট উদ্ধার বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৬২৫টি। একইভাবে ৫০০ টাকার জাল নোট ২০১৬ সালে উদ্ধার হয়েছিল ৩ হাজার ৮৬টি। কিন্তু ২০১৯ সালে উদ্ধার করা হয় ৪ হাজার ৯১৯টি। ২০০ টাকার জাল নোট ২০১৬ সালে ধরা পড়েছিল ১০৮টি। গত বছর উদ্ধার করা হয় ৭৩৮টি। নিজের পেশ করা রিপোর্টে জি কিষান রেড্ডি উল্লেখ করেছেন, এই জাল নোট কারবারিরা সন্ত্রাসবাদীদের সাহায্য করতেই এই কারবার করে থাকে। এই জাল নোট কারবার বন্ধে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ সক্রিয়। টেরর ফান্ডিং এবং ফেক কারেন্সি সেল গঠন করে সাফল্য মিলেছে।

এই তথ্য প্রকাশ হতেই শাসক-বিরোধী তর্জা শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি দীপেন প্রামাণিক বলেন, তৃণমূলের জমানায় রাজ্যে জঙ্গি সংগঠনের বাড়বাড়ন্ত হয়েছে। শাসকদলের নেতা-কর্মীদের অনেকেই জাল নোটের কারবারের সঙ্গে জড়িত। সীমান্তে গোরু পাচার বন্ধ না হলে জাল নোটের কারবার বন্ধ হবে না। ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য গোবিন্দ রায় বলেন, উত্তরবঙ্গ তথা রাজ্যের বাংলাদেশের সীমান্তের অনেক জেলায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গিদের মদত জোগাতেই জাল নোটের রমরমা ব্যবসা চলছে। কেন্দ্রীয় সরকার জাল নোটচক্র বন্ধ করতে ব্যর্থ। সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি ঢিলেঢালা বলে জাল নোট কারবারিরা ব্যবসা ফেঁদে বসেছে। এ বিষয়ে প্রদেশ তৃণমূলের মুখপাত্র সুপ্রিয় চন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নোটবন্দি, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে জঙ্গি বিলোপ নিয়ে নিজেদের কৃতিত্ব জাহির করেছিলেন। কিন্তু জাল নোটের কারবার সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে আটকানো যায়নি। সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্ব কেন্দ্রের। শুধু রাজ্যকে দোষারোপ না করে সহযোগিতা করলে কাজ আরও ভালো হবে।