করোনা ভ্যাকসিনকে আঁকড়ে সক্রিয় জালিয়াতরা

202

সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি : হ্যালো, ব্যাংক থেকে বলছি। আপনার এটিএম কার্ড লক হয়ে গিয়েছে। ফের কার্ড চালু করতে চান? আপনার মোবাইল ফোনে ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) যাবে। সেটা আমাদের জানান। প্রসঙ্গটা কী তা নিশ্চয়ই এতক্ষণে সবার বোঝা সারা। ব্যাংক থেকে টাকা গায়েব করার এই পদ্ধতি এখন রীতিমতো ব্যাকডেটেড। এ নিয়ে খবরের কাগজ, টিভি সহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে এতবার প্রচার চালানো হয়েছে যে, মানুষ বড্ড সেয়ানা হয়ে গিয়েছে। ব্যাংক অফিসার পরিচয় দিয়ে সেই মানুষকে বোকা বানানো এখন যথেষ্টই চাপের। কিন্তু কথায় বলে না, ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়। এই মন্ত্রটা ওদেরও জানা। সেয়ানা হয়ে ওঠা মানুষকে ফের বোকা বানাতে জালিয়াতদের অবলম্বন আর ব্যাংক অফিসার নয়, এবারে করোনা ভ্যাকসিন। সুনিপুণভাবে পাতা এ ফাঁদে পা দিয়ে অনেকে ইতিমধ্যেই টাকা খুইয়েছেন। যে কায়দায় গোটা অপারেশন চালানো হচ্ছে তা রীতিমতো চোখ কপালে তোলোর মতোই।

কীভাবে চালানো হচ্ছে নতুন অপারেশন? করোনা ভ্যাকসিনের জন্য নাম রেজিস্ট্রেশনের টোপ দিয়ে আধার নম্বর, ই-মেল আইডির মতো সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে উৎসাহিত হয়ে সাড়া দিলেই অপরপক্ষের কাজ অর্ধেক সাড়া। ভ্যাকসিনের বুকিং কনফার্ম করতে মোবাইলে পাঠানো ওটিপি চাওয়া হচ্ছে। যাঁরা তা ফোনের অন্য পারে থাকা চক্রটির হাতে তুলে দিচ্ছেন, কিছুক্ষণ বাদে নিজের ভুল বুঝতে পারছেন। ততক্ষণে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বড়সড়ো অঙ্কের টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে। পেশায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মী সায়ন্তন চক্রবর্তীর কাছেও এমন ফোন এসেছিল। বলছেন, করোনার প্রকোপ চলাকালীন বাড়ির বাইরে কাজ করছি বলে প্রথম পর্যায়ে আমাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে বলে আমাকে ফোনে বলা হয়। প্রথমে কিছু সন্দেহ হয়নি। কিন্তু খানিক বাদে আধার নম্বর চাওয়ায় সন্দেহ হয়। তারপর গোটা ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়। সায়ন্তনের কথায়, এই মুহূর্তে ভ্যাকসিনের বিষয়টি এতটাই সংবেদনশীল যে, এ নিয়ে যে জালিয়াতি হতে পারে তা চট করে কারও মাথাতেই আসবে না। এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, করোনা ভ্যাকসিনের জন্য দেশে এই মুহূর্তে কোনও রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে না। প্রথম পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কর্মরত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে সেই তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়ে গিয়েছে। যে স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রথম পর্যায়ের টিকা পাবেন রাজ্য সরকারের তরফে তাঁদের মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে টিকারকরণের জন্য নাম নথিভুক্তির কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে নিজের থেকে নাম রেজিস্ট্রেশনের কোনও সুযোগ নেই বলে স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানান।

- Advertisement -

করোনা নিয়ে উত্তরবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুশান্ত রায় বলেন, চিকিৎসক, নার্সদের মতো প্রথম সারির করোনা যোদ্ধাদের জন্য ভ্যাকসিন দেওয়া ছাড়া আমাদের এই মুহূর্তে অন্য কোনও পরিকল্পনা নেই। এই চিকিৎসক, নার্স সহ স্বাস্থ্যকর্মীরা ভ্যাকসিন নিয়ে পরে বাকিদের টিকাকরণের কাজ করবেন। ভবিষ্যতে যা হবে তা সরকারিভাবেই করা হবে। ভ্যাকসিন নিয়ে জালিয়াতি শুরু হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, বিষয়টি সাইবার অপরাধের আওতায় পড়ে। তবে এখনও পর্যন্ত জেলায় এ ধরনের জালিয়াতির কোনও অভিযোগ মেলেনি। অভিযোগ পেলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। তবে অতি উৎসাহে আধার বা প্যান নম্বর, মোবাইলে আসা ওটিপির মতো সংবেদনশীল তথ্য কাউকে জানানো যে উচিত নয় তা সবাইকে বুঝতে হবে। কেননা, টাকা একবার জালিয়াত চক্রের হাতে চলে গেলে তা ফেরানো বেশ কষ্টকর।