স্ট্যাম্প পেপারে লেখাপড়া করে সম্পর্কে ব্রেকআপ

172

উজ্জ্বল রায়, ধূপগুড়ি : বিয়ে ভাঙলে না হয় আইনি কাগজপত্রে সইসাবুদ করার ব্যাপার থাকে, কিন্তু সাতপাকে বাঁধা পড়ার আগেই এমন কিছু ঘটলে? ২০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প পেপারে সবকিছু জানিয়ে ব্রেকআপ হল জানলে নিশ্চিতভাবে পিলে চমকে উঠবেই উঠবে।

হিন্দিতে ‘জরা হটকে’ বলে একটা কথা আছে। এই সুবাদে ধূপগুড়ি বরাবরই উত্তরবঙ্গে পথিকৃৎ। প্রেমিক বিয়ে করতে অস্বীকার করলে তার বাড়িতে গিয়ে প্রেমিকার ধর্নায় বসাটা খুব সাধারণ। কিন্তু উলটোটা হলে? এমনটা যে হতে পারে সেটা কেউ ভাবতেই পারেননি। ধূপগুড়িই সেই রাস্তা দেখিয়েছিল। তারপর সংবাদ শিরোনাম, হইহই রইরই কাণ্ড। প্রেমিকার বাড়ির সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বসা প্রেমিককে ক্যামেরার ফ্রেমে ধরে ২৪ ঘণ্টার লাইভ কভারেজ। শেষপর্যন্ত সবকিছুর মধুরেণ সমাপয়েৎ। বিয়েতে বেঁকে বসা প্রেমিকাকে বৌ বানিয়ে অনন্ত নামে সেই প্রেমিকপ্রবরের এখন সুখে ঘরসংসার। ধূপগুড়ির ইতিহাসে এমন জরা হটকে কাণ্ডকীর্তির নজির বহু। নবতম সংযোজন নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প পেপারে ব্রেকআপ।

- Advertisement -

এবারের ঘটনাস্থল ধূপগুড়ি শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ড। এলাকার একজোড়া যুবক-যুবতীর মধ্যে টানা তিন বছরের প্রেম। সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। দুই বাড়ির সদস্যরাই দুজনের সম্পর্কের বিষয়ে জানতেন। এরই মাঝে যুবতীর জীবনে আরেক যুবকের এন্ট্রি। যুবতী অবশ্য পাকা খেলুড়ের মতো পুরোনোর পাশাপাশি নতুনকে সামলে ভালোমতোই চলছিলেন। কিন্তু এসব ব্যাপার তো আর চাপা থাকে না। স্বাভাবিক নিয়মে যুবতীর পুরোনো প্রেমিকও তা টের পেলেন। তবে তিনি খাওয়াদাওয়া ছেড়ে হাতে সুরার বোতল নিয়ে দেবদাস হওয়ার পথে হাঁটেননি। সেই অনন্তর মতো প্ল্যাকার্ড হাতে প্রেমিকার বাড়ির সামনে গিয়ে বসেননি।

বরং ২০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প পেপার নিয়ে তিনি একদিন সোজা প্রেমিকার বাড়িতে হাজির। আর সম্পর্ক রাখতে চান না বলে তিনি প্রেমিকাকে জানান। পাশাপাশি, গোটা ঘটনাটি প্রেমিকাকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়ে ওই স্ট্যাম্প পেপারে সইও করিয়ে নেন।

প্রেম-ভালোবাসার বিচ্ছেদ উভয়পক্ষের শীর্ষকে ওই স্ট্যাম্প পেপারে লেখা যুবতীর প্রায় ১২ লাইনের স্বীকারোক্তি এগিয়েছে ধারাবিবরণীর স্টাইলে। তাতে নিজের পাশাপাশি বাবা, পুরোনো প্রেমিক ও না হওয়া শ্বশুরের পরিচয় থেকে শুরু করে কীভাবে ওই যুবতী নতুন এক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লেন, সবই আছে। পুরোনো প্রেমিকের সঙ্গে তাঁর যে আর কোনও যোগাযোগ থাকবে না তা স্ট্যাম্প পেপারের স্বীকারোক্তির শেষে ওই যুবতী জানিয়ে দিয়েছেন। ফের আরেক চোট হইহই, রইরই।

কেন এমন কাণ্ড ঘটালেন? ওই যুবকের সাফ কথা, আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক। অথচ আরেকজন এই সম্পর্কে কীভাবে ঢোকে? আমি কেন, কেউই এটা মানতে পারবে না। চাই না, ওই যুবকের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ হলে মেয়েটি ফের আমার জীবনে ফেরার সুযোগ পাক। তাই-ই এমনটা করেছি। তবে আন্তরিকভাবে চাই, নতুন সম্পর্কে ওর ভালো হোক। বহু চেষ্টা করেও ওই যুবতীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। অনন্তর ঘটনায় সবাই ধূপগুড়ির ইতিবাচক মনোভাবের বিষয়টি টের পেয়েছিল। এবারের ঘটনাতেই তা পরিষ্কার।