পুলিশি নিষ্ক্রিয়তায় প্রাণ গেল দম্পতির

292
প্রতীকী ছবি

বারাসাত: মঙ্গলবার মধ্যরাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান এক দম্পতি। তাদের নাম রামকৃষ্ণ মন্ডল ও রানী মন্ডল। পুলিশ ওই ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হলেও মূল অপরাধী তন্ময় বল এখনও পলাতক। ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবড়া থানা এলাকার।

সূত্রের খবর, রাম কৃষ্ণ বাবুর ১৯ বছর বয়সী একটি ভাইঝি রয়েছে। অভিযোগ, তন্ময় নিয়মিতভাবে তাকে উত্ত্যক্ত করত। একবার নাবালক অবস্থায় রামকৃষ্ণ বাবুর ভাইজিকে তন্ময় অপহরণ করে বাংলাদেশ নিয়ে গিয়েছিল। পরে অনেক কষ্টে তারা তাকে ফিরিয়ে আনতে সমর্থ হন। ওই ব্যাপারে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলেও পরে সে ছাড়া পেয়ে যায়। নতুন করে ওই যুবতীকে উত্তপ্ত করা শুরু করে। রামকৃষ্ণ বাবুর ভাইঝির অভিযোগ, তন্ময় তাকে লক্ষ্য করে একবার এসিডে ছুড়েছিল।

- Advertisement -

রামকৃষ্ণ বাবু পরিবার সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাত দুটো নাগাদ হঠাৎই তার স্ত্রী রানী দেবী একটা আওয়াজ শুনে উঠে পড়েন। রামকৃষ্ণ বাবুকে তিনি ডেকে ও তাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরোতে গেলে তারা দেখতে পান বাড়ির সব দরজা গুলি বাইরে থেকে বন্ধ। শুধুমাত্র তাদের ঘরের দরজা খোলা পেয়ে তারা বাইরে বেরিয়ে এসে চারিদিকে ঘুরে কিছু দেখতে না পেয়ে আবার বাড়িতে ঢুকে যান। এরপর রানী দেবী শৌচাগারে যাওয়ার জন্য বেরোলে তার মাথা লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গুলির আওয়াজ শুনে রামকৃষ্ণ বাবু ছুটে গেলে তাকেও লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। সেইগুলি তার পেটে লাগে।

স্থানীয়রা আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে, সেখানে তাদের মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রামকৃষ্ণ বাবুদের প্রতিবেশী তন্ময় আগে থেকেই খুন করবার জন্য পরিকল্পনা করে একটি গাছে উঠে বসে ছিল। উদ্দেশ্য ছিল রামকৃষ্ণ বাবু ও তার স্ত্রী বাইরে বেরোলেই সে তাদের গুলি করবে। আর সেই কারণেই সে অন্যান্য ঘরগুলির বেরোবার দরজার বাইরে থেকে তালা দিয়ে রেখেছিল। খোলা রেখেছিল রামকৃষ্ণ বাবু ও তার স্ত্রীর ঘরের দরজা।

রামকৃষ্ণ বাবুর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, বারবার তন্ময়ের বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা সত্ত্বেও পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পুলিশ সময় মতো ব্যবস্থা নিলে এদিন রাতের ঘটনাটি ঘটতো না। পুলিশ তন্ময়ের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছে। তাদের ধারণা খুন করার পর সে বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারে।