শিশুদের হাসিতে মেয়েকে খোঁজেন সুদর্শন, মৌমিতা

532

আলিপুরদুয়ার : শুক্রবার সুদর্শন রায় এবং তাঁর স্ত্রী মৌমিতা রায় মেয়ের স্মৃতিতে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে পুষ্টি পুনর্বাসন কেন্দ্র ও বাচ্চাদের ওয়ার্ডে থাকা সব শিশুর হাতে খেলনা ও বিস্কুট তুলে দেন। আদতে তাঁরা দিনহাটার বাসিন্দা হলেও এখন কর্মসূত্রে আলিপুরদুয়ারে থাকেন। সুদর্শন রায় সরকারি কর্মচারী। গত ডিসেম্বর মাসে তাঁদের একমাত্র মেয়ে প্রাযুক্তা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তার স্মৃতিতেই সুদর্শনবাবু প্রাযুক্তা ফাউন্ডেশন তৈরি করেন। তাঁরা চান, হাসপাতালের সব শিশু যেন হাসিমুখে থাকে। এজন্যই রায় দম্পতি পৌঁছে গিয়েছিলেন আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে। তাঁদের মেয়ে প্রাযুক্তার চিকিৎসাও এই হাসপাতালেই হয়েছিল। রায় দম্পতি জানান, মেয়ে বয়স যখন দুবছর তখন হঠাৎই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষার পর জানা যায়, তাঁদের মেয়ে নিউরোব্লাস্টোমা ক্যানসারে আক্রান্ত। এরপর তাঁরা প্রাযুক্তাকে নিয়ে মুম্বইয়ে টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে যান। সেখানকার হাসপাতালে কয়েক মাসে রায় দম্পতির এক নতুন অভিজ্ঞতা হয়। সুদর্শনবাবু বলেন, শিশুদের ওয়ার্ডে দেখেছি, বাচ্চারা কাঁদলে তাদের হাতে খেলনা, চকোলেট, বিস্কুট ইত্যাদি ধরিয়ে দেওয়া হত। সেখান থেকে ফিরে মেয়েকে ব্লাড ট্রান্সপ্ল্যান্ট করানোর জন্য দিনহাটা হাসপাতাল এবং আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। সেখানে দেখি, শিশুদের ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা ৪০-৫০, যা মুম্বইয়ে হাসপাতালের চেয়ে অনেক কম। তা সত্ত্বেও সেখান থেকে শুধু বাচ্চাদের কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে। যা মুম্বইয়ের হাসপাতালে একদমই ছিল না। তখন থেকেই বাচ্চাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য খেলনা, চকোলেট ইত্যাদি দেওয়ার কথা মাথায় আসে। তিনি জানান, প্রথমবার প্রাযুক্তাকে ভর্তি করানোর সময় ওর হাত দিয়ে ওইসব সামগ্রী বাচ্চাদের দিতেন। তাতে তাঁদের সন্তানও খুশি হত। অন্য বাচ্চারাও আনন্দে থাকত।

কিন্তু, শেষ পর্যন্ত মেয়েকে আর বাঁচাতে পারেননি। এদিন মেয়ে স্মৃতিতে শিশু ও পুষ্টি পুনর্বাসন কেন্দ্রের ৫৬টি বাচ্চার হাতে খেলনা ও বিস্কুট তুলে দেন তাঁরা। এই শিশুদের আনন্দেই নিজের শোক ভুলে আনন্দ ভাগ করে নেন তাঁরা। এখন অনেকেই সুদর্শনবাবুকে প্রাযুক্তার বাবা নামে চেনেন। তিনি বলেন, বাবা হিসেবে এটাই চেয়েছিলাম। সুদর্শনবাবুর মুখে মেয়ে গল্প শুরু হতেই মৌমিতাদেবীর চোখের কোনায় জল চিকচিক করে ওঠে। সেই কষ্ট ভুলতেই অন্য শিশুদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন তাঁরা।  মৌমিতা বলেন, যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন এভাবেই বাচ্চাদের জন্য কিছু করে যেতে চাই। হাসপাতালের সুপার চিন্ময় বর্মন বলেন, রায় দম্পতির কথা জানি। খুব ভালো উদ্যোগ।

- Advertisement -