বিহার, ১৩ ফেব্রয়ুারিঃ পরিবারের অমতে বিয়ে করার অপরাধে নৃশংস ভাবে খুন হতে হল এক যুগলকে। ঘটনাটি ঘটেছে গয়ার মুফস্‌সিল থানা এলাকার বজিরগঞ্জে। পরিবারের সম্মান রক্ষার অজুহাতে মৃতা তরুণীর বাবা, কাকা, মামা মিলে ওই যুগলকে গলা টিপে খুন করে, দেহ টুকরো করে কেটে, পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ।

জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে গৃহশিক্ষকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন মৃতা তরুণী। দু’জনের জাতি আলাদা হওয়ায়, তরুণীর বাড়ি থেকে মেনে নেয়নি সম্পর্ক। ফলে কিছু দিন পরে মন্দিরে বিয়ে করে, বাড়ি থেকে দূরে অন্য একটি এলাকায় আলাদা ঘর ভাড়া করে থাকতে শুরু করেন তাঁরা। বিষয়টি জানাজানি হতেই তরুণীর পরিবারের সদস্যেরা তাদের মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এর পর তারা পুলিশকে চাপ দিয়ে ওই তরুণ-তরুণীকে বাড়ি থেকে বার করে আনে বলে অভিযোগ৷ গ্রেফতার করা হয় তরুণকে। তবে আদালতে তরুণীর বয়ান শুনে তরুণকে জামিনে মুক্তি দেয় আদালত। এর পর বিষয়টি গ্রাম পঞ্চায়েতের সামনে আনা হলে সেখানেও তাদের একসঙ্গে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়।

কিন্তু, এর পরও তরুণীর বাবা, তার ভাই ও শালা তরুণীকে বাড়ি নিয়ে যায়৷ এরই মাঝে ওই তরুণ স্ত্রীর সঙ্গে লুকিয়ে দেখা করতে আসলে তাদের দুজনকে অপহরণ করে একটি নদীর পাড়ে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা৷ অভিযোগ, সেখানেই প্রথমে তরুণ-তরুণীর গলা টিপে হত্যা করা হয়৷ এর পর মৃতদেহগুলি টুকরো করে কেটে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়৷ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তদের। জেরায় তারা অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানা গিয়েছে৷ পুড়ে যাওয়া দেহাংশগুলি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।