নদীর গতিপথ রুখে দখলদারি চা বাগানে

125

সুকনা : এ যেন এক নতুন ধরনের দখলদারি। বাগান লাগোয়া নদীর গতিপথের একেবারে মাঝখানে পাহাড়সমান বালি-পাথরের স্তূপ! শুধু এক জায়গায় নয়, বাগানের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর একাধিক জায়গায় এই স্তূপ তৈরি করা হয়েছে। গতিপথ আটকে দেওয়ার মধ্যেই চলছে দখলদারির ছক!

শিলিগুড়ির অদূরে গুলমা-মোহরগাঁও চা বাগানের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া পঞ্চনই নদীর গতিপথকে কেন্দ্র করেই এই যাবতীয় দখলদারির প্রক্রিয়া চলছে। বাগানের মধ্যে প্রায় দুই কিলোমিটারেরও বেশি জায়গায় ড্রোজার দিয়ে বালি-পাথর ফেলে নদীর স্রোতে বাধার সৃষ্টি করা হয়েছে। গতিপথের একপাশ দিয়ে ফেলা হচ্ছে বোল্ডার ও পাথর। এই কাজে নিযুক্ত শ্রমিকদের পরিষ্কার বক্তব্য, বাগান কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই যাবতীয় কাজ করা হচ্ছে।

- Advertisement -

অন্যদিকে বাগান ম্যানেজার সঞ্জীব গুপ্তের দাবি, নদীর স্রোতে ভেসে আসা বালি-পাথর জমেই এভাবে স্তূপে পরিণত হয়েছে। চা বাগান এবং শ্রমিক মহল্লাকে বাঁচাতে আমরা শুধু বাঁধ তৈরি করেছি। ব্যাপারটা আমরা সেচ দপ্তরকেও জানিয়ে দিয়েছি।

তবে সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা জানান, গোটা বিষয়টি তাঁদের কাছে অজানা। শিলিগুড়ি সেচ দপ্তরের ওই আধিকারিকের বক্তব্য, নদীতে এ ধরনের কাজ করার কোনও সম্মতি চা বাগান কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে বলে আমার জানা নেই। পাশাপাশি তাঁর স্বীকারোক্তি, বাগানের মধ্যে দিয়ে যাওয়া নদীর গতিপথের ওই অংশ সবসময় দেখা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। অভিযোগ মতো আমরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

মহানন্দা অভয়ারণ্যের মধ্যে দিয়ে শহরের দিকে আসা পঞ্চনই নদী গুলমা-মোহরগাঁও চা বাগানের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে। সুকনা বাজার সংলগ্ন ইলা পালচৌধুরী মেমোরিয়াল ট্রাইবাল (হিন্দি) হাইস্কুলের মাঠ পেরোলেই নদীর স্রোত, জঙ্গল ও চা বাগানের মেলবন্ধনে এক অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের দেখা মেলে।

প্রকৃতির সেই ককটেল দেখতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ। নদীর একেবারে মাঝখানে বালি-পাথরের পাহাড়সমান স্তূপ। দেখে বোঝাই যাচ্ছে, এটা প্রাকৃতিক নয়। গোটা স্তূপটাই ড্রোজার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। চা বাগানের ভেতরে যাওয়া গতিপথের বাঁক নেওয়ার জায়গায় বালি-পাথরের আরও বড় স্তূপ নজরে পড়ল। গতিপথ বরাবর চা বাগানের ভেতর ঢুকতেই দেখা গেল শ্রমিক, ড্রোজার, ট্র‌্যাক্টরের দক্ষযজ্ঞ। নদীর ধার বরাবর  বালি-পাথর, বোল্ডার দেওয়ার ব্যাপারে শ্রমিকদের নির্দেশ দিচ্ছিলেন এক ব্যক্তি। নাম না বলতে চাইলেও জানা যায় যে তিনি  কাজের তদারকিতে রয়েছেন। কাজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি কিছুটা অস্বস্তিতে পড়লেন। ঢোক গিলে তাঁর বক্তব্য, মালিকের নির্দেশ মতোই আমাদের কাজ করে যেতে হবে।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক ডঃ সুবীর সরকার বলেন, পঞ্চনই নদীতে এতটাও জল আসে না যে নিজে থেকে গতিপথের মাঝখানে স্তূপ তৈরি হয়ে যাবে। গতিপথ আটকানোর চেষ্টা করলে নদীর অভিমুখ ঘুরে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকছে। ফলে আশপাশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। চা বাগানগুলো অনেকসময় ইচ্ছেমতো বাঁধ দেওয়ার নাম করে এসব করে যাচ্ছে। প্রশাসনের অতি দ্রুত বিষয়টি দেখা উচিত।
দার্জিলিংয়ে জেলা শাসক এস পন্নমবল্লম বলেন, দ্রুতই ওখানে একটা টিম পাঠাচ্ছি। এ ব্যাপারে আমরা আইনত ব্যবস্থা নেব।