বর্ধমান, ২৮ বর্ধমানঃ পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া সহ আরো ৪ জনের বিরুদ্ধে এক যুবককে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে নির্দিষ্ট ধরায় মামলা রুজু করার নির্দেশ দিল বর্ধমান আদালত। পাশাপাশি, খণ্ডঘোষ থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বর্ধমান সিজেএম আদালতের বিচারক রতন কুমার গুপ্তা এই নির্দেশ দিয়েছেন। খণ্ডঘোষের দুবরাজহাট গ্রামের যুবক পবিত্র কুমার ঘোষ (২৬) গত ১৩ জানুয়ারি রাতে বাড়িতে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করে বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা পরদিন সকালে তাঁকে ঘরের মধ্যে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপরই ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত বিচার চেয়ে মা কল্পনা ঘোষ শুক্রবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার ভিত্তিতে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে যুবককে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে আদালতের এই নির্দেশ। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কল্পনাদেবী জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। মৃত্যুর দিন ঘর থেকে সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। সেখানে মৃত্যুর জন্য জন্য জেলা সভাধিপতি, একজন ঠিকাদার সহ অপর দু’জনকে পবিত্র তাঁর মৃত্যুর জন্য দায়ি করে গিয়েছেন। মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, যুবকের মৃত্যুর পর বিভিন্ন মহল থেকে তাঁর পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। সেই বিষয়টি খণ্ডঘোষ থানা এবং পুলিশ সুপারকে জানানোর পরও, কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে মৃত যুবকের মা আদালতে মামলা করেছেন। যদিও, জেলা সভাধিপতি শম্পা ধারা আদালতের নির্দেশের বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই বলে জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যে ও পরিকল্পনা মাফিক সাজানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। খণ্ডঘোষ থানার ওসি প্রসেনজিৎ দত্ত জানান, আদালত নির্দেশ দিলে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, খণ্ডঘোষ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অপার্থিব ইসলাম জানিয়েছেন, মামলার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না।