অনুমোদন মিললে জানুয়ারিতেই কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন: আদর পুনাওয়ালা

1571

নয়াদিল্লি: কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ফের আশার খবর শোনালেন পুণের ওষুধ নির্মাতা কোম্পানি সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার(এসআইআই) সিইও আদর পুনাওয়ালা। বুধবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ২০২১ এর জানুয়ারি নাগাদ দেশে করোনা মোকাবিলায় ভ্যাকসিন পাওয়া যেতে পারে। তবে, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির কাছ থেকে সময়মতো অনুমোদন পাওয়াটা জরুরি বলে জানিয়েছেন।

করোনা-১৯ রোধী কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন তৈরির ব্যাপারে ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্মা কোম্পানি অ্যাসট্রাজেনেকার সঙ্গে পুনাওয়ালার সংস্থা একযোগে কাজ করছে। কোভিশিল্ডকে সম্ভাব্য করোনা দাওয়াই বলে মনে করা হচ্ছে। পুনাওয়ালা বলেছেন, ভারত ও ব্রিটেনে সফল ট্রায়ালের ওপর নির্ভর করে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির কাছ থেকে সময়মতো সম্মতি মিললে আশা করতে পারি, ভারতে ২০২১ এর জানুয়ারিতে ভ্যাকসিন আসছে। তবে অবশ্যই তা প্রতিরোধক্ষমতা তৈরির শক্তিবাহী, কার্যকর প্রমাণিত হতে হবে।

- Advertisement -

ভারতে কোভিশিল্ডের ক্লিনিকাল পরীক্ষা দ্বিতীয়-তৃতীয় পর্যায়ে আছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্য়ালয়ে কাজ চলছে কোভিশিল্ড নিয়ে। সিরাম ইনস্টিটিউট তা তৈরি করবে মাঝারি ও নিম্ন আয়ের দেশগুলির জন্য। আদর পুনাওয়ালা জানান, ভারতে ও বিদেশে এখনও পর্যন্ত কয়েক হাজার লোকের শরীরে ওই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে এবং তার সুরক্ষা সংক্রান্ত কোনও সংশয় দেখা যায়নি। তাঁর আরও দাবি, ভ্যাকসিনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব টের পেতে ২-৩ বছর লাগবে।

অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, ভ্যাকসিনের দুটি ডোজের প্রভাব অনেক বেশি হতে পারে বলে ট্রায়ালে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এক ডোজের ভ্যাকসিন ইঞ্জেকশনের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়েও ট্রায়াল চলছে। এদিকে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল ‘দি ল্যান্সেট’-এ প্রকাশিত এক রিপোর্টে সম্ভাব্য কোভিড-১৯ রোধী ভ্যাকসিন ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সিদের শরীরে দ্বিমুখী প্রতিরোধী শক্তি তৈরি করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে ভ্যাকসিনের দাম নিয়ে সরকারের সঙ্গে কথা শুরু করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওষুধ নির্মাতা কোম্পানির সিইও পুনাওয়ালা। তিনি বলেছেন, আমরা নিশ্চিত, এর দাম সবার সাধ্যের মধ্যে থাকবে বলে জানান তিনি। সিরাম প্রায় ৬০-৭০ মিলিয়ন ডোজ তৈরির লক্ষ্য ধরে কাজ শুরু হয়েছে। যে সংখ্যাটা পরর্বতীতে বাড়িয়ে ১০০ মিলিয়ন পর্যন্ত করা হবে।